ভারতের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকার আর নেই। বৃহস্পতিবার ভোরে ভারতের গোয়ায় ৭৫ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনি। তার মৃত্যুর পর সামনে এসেছে স্ত্রী নীলকান্তি পাটেকারের সঙ্গে দীর্ঘ দাম্পত্যজীবনের একটি অজানা অধ্যায়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৩৫ বছর ধরে আলাদা থাকলেও নীলকান্তির সঙ্গে কখনো আইনিভাবে বিবাহবিচ্ছেদ করেননি নানা পাটেকার।
নানা ও নীলকান্তির পরিচয় থিয়েটারে কাজ করার সময়। দুজনই তখন মঞ্চনাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭৮ সালে তারা বিয়ে করেন। নীলকান্তিও মারাঠি থিয়েটার ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
পরবর্তী সময়ে নানা পাটেকার ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত অভিনেতা হয়ে উঠলেও নীলকান্তি ধীরে ধীরে অভিনয় ও প্রচারের আলো থেকে দূরে সরে যান।
এক সাক্ষাৎকারে নানা জানিয়েছিলেন, দুজনের ব্যক্তিত্ব ও চিন্তাভাবনার পার্থক্যের কারণে একসঙ্গে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ কারণে তারা আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তবে সেই দূরত্ব কখনো আইনিভাবে বিবাহবিচ্ছেদে গড়ায়নি।
আলাদা থাকলেও নীলকান্তির প্রতি কৃতজ্ঞ ছিলেন নানা। অভিনয়জীবনের শুরুর দিকে যখন নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন, তখন স্ত্রী তাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছিলেন। নীলকান্তি একটি ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতেন। নানা অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তেও তিনি স্বামীর পাশে ছিলেন।
নানা ও নীলকান্তির দাম্পত্যজীবনে নেমে এসেছিল বড় শোক। তাদের প্রথম সন্তান দুর্বাসা মাত্র আড়াই বছর বয়সে মারা যায়। পরে তাদের আরেক ছেলে মালহার পাটেকারের জন্ম হয়।
দীর্ঘ ৩৫ বছর আলাদা থাকার পরও নানা ও নীলকান্তির বিয়ে আইনিভাবে বহাল ছিল। নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে দুজনই প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেননি। ফলে তাদের দাম্পত্যজীবনের এই অধ্যায়ও এতদিন অনেকটাই আড়ালে ছিল।
একই ছাদের নিচে না থেকেও কেন তারা এত বছর বিবাহিত ছিলেন—নানা পাটেকারের ব্যক্তিজীবনের এই অধ্যায় তার মৃত্যুর পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সূত্র: মুভিটকিজ
এসএস




Comments