Image description

ছুটির দিনে ঘুরতে গিয়ে হোটেলের রুম কিংবা শপিং মলের ট্রায়াল রুমে পোশাক পরিবর্তনের সময় এখন অনেকের মনেই একটি আতঙ্ক কাজ করে— ‘এখানে কোনো গোপন ক্যামেরা নেই তো?’ সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ও বিদেশে গোপন ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করে হয়রানির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৫৮ শতাংশ মানুষ গোপন ক্যামেরা নিয়ে উদ্বেগে থাকেন।

বাস্তবে এসব ক্যামেরা খালি চোখে ধরা প্রায় অসম্ভব। প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি-র এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, একটি ঘরে লুকানো ২৭টি ক্যামেরার মধ্যে অনুসন্ধানী দল খালি চোখে মাত্র একটি খুঁজে পেয়েছে। তবে সচেতনতা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে সহজেই এই বিপদ এড়ানো সম্ভব। গোপন ক্যামেরা শনাক্তে বিশেষজ্ঞ নির্দেশিত ৫টি কার্যকর উপায় নিচে তুলে ধরা হলো:

১. সন্দেহজনক বস্তু নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ:
অপরিচিত কক্ষে ঢুকে প্রথমেই চারপাশের পরিবেশ ভালো করে দেখে নিন। বিশেষ করে দেয়ালঘড়ি, কলমদানি, ফায়ার অ্যালার্ম, চার্জিং অ্যাডাপ্টার, এসি বা সিগন্যাল সকেট এবং দেয়ালে টাঙানো ছবির ফ্রেমগুলো ভালো করে পরীক্ষা করুন। কোনো শো-পিস বা বস্তু যদি অস্বাভাবিকভাবে বিছানা কিংবা বাথরুমের দিকে মুখ করে রাখা থাকে, তবে সেটিতে লেন্স আছে কি না তা যাচাই করুন।

২. দুমুখো আয়না (Two-way Mirror) পরীক্ষা:
আয়নার পেছনে ক্যামেরা আছে কি না তা বুঝতে ‘আঙুল পরীক্ষা’ করুন। আয়নার ওপর আপনার আঙুলের ডগা রাখুন। যদি আপনার আসল আঙুল এবং আয়নার প্রতিচ্ছবির আঙুলের মাঝে সামান্য ফাঁক থাকে, তবে বুঝবেন এটি সাধারণ আয়না। কিন্তু যদি আসল আঙুল এবং প্রতিচ্ছবি একটি অন্যটিকে সরাসরি স্পর্শ করে (মাঝে কোনো ফাঁকা না থাকে), তবে বুঝতে হবে এটি দুমুখো আয়না, যার পেছনে ক্যামেরা থাকতে পারে।

৩. আলো ও অন্ধকারের খেলা:
ঘরের সব বাতি নিভিয়ে ঘুটঘুটে অন্ধকার করুন। গোপন ক্যামেরায় সচল থাকার সংকেত হিসেবে অনেক সময় ক্ষুদ্র লাল, সবুজ বা নীল রঙের এলইডি লাইট জ্বলে। এছাড়া টর্চলাইট জ্বেলে ঘরের সম্ভাব্য স্থানগুলোতে আলো ফেলুন। ক্যামেরার লেন্সে আলো পড়লে বিশেষ নীল বা বেগুনি আভা প্রতিফলিত হয়, যা সহজেই চোখে ধরা পড়ে।

৪. ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক স্ক্যান:
আধুনিক আইপি ক্যামেরাগুলো সাধারণত ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের সাহায্যে চলে। আপনি যে রুমের ওয়াইফাই ব্যবহার করছেন, মোবাইলের নেটওয়ার্ক স্ক্যানিং অ্যাপ দিয়ে সেই নেটওয়ার্কে যুক্ত ডিভাইসের তালিকা দেখে নিতে পারেন। যদি তালিকায় অপরিচিত কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের নাম ভেসে ওঠে, তবে সেখানে ক্যামেরা থাকার প্রবল সম্ভাবনা থাকে।

৫. স্মার্টফোন ও ইনফ্রারেড শনাক্তকরণ:
স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়েও গোপন ক্যামেরা খুঁজে পাওয়া সম্ভব। ঘরের বাতি নিভিয়ে মোবাইলের ক্যামেরা চালু করে চারদিকে ঘোরান। খালি চোখে দেখা যায় না এমন অনেক ইনফ্রারেড আলো মোবাইলের স্ক্রিনে বেগুনি আলো হিসেবে দেখা দেয়। এছাড়া প্লে-স্টোর বা অ্যাপ-স্টোর থেকে ‘হিডেন ডিভাইস ডিটেক্টর’ জাতীয় বিশ্বস্ত অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন, যা ফোনের ম্যাগনেটিক সেন্সর ব্যবহার করে ক্যামেরার অবস্থান শনাক্ত করতে সাহায্য করে।

সতর্কতা ও প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয়ই পারে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানি থেকে আপনাকে সুরক্ষিত রাখতে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর