রক্তাক্ত পোল্যান্ড: শুরু হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, নাৎসি বাহিনীর ‘ব্লিৎসক্রিগ’ তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড সীমান্ত
সব আশঙ্কাকে সত্যি করে পোল্যান্ডে ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করেছে অ্যাডলফ হিটলারের নাৎসি জার্মানি। শুক্রবার ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে পোল্যান্ডের মুক্ত শহর ডানজিগের ওয়েস্টারপ্লাটে জার্মানির একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে গোলাবর্ষণের মাধ্যমে এই হামলার সূচনা হয়। একই সঙ্গে পোল্যান্ডের সীমান্তজুড়ে আকাশ ও স্থলপথে সাঁড়াশি আক্রমণ চালাচ্ছে জার্মান বাহিনী।
ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এই সামরিক পদক্ষেপের ফলে ইউরোপসহ পুরো বিশ্ব এখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে।
ভোররাতের সেই নৃশংস হামলা
পোলিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই আজ ভোররাত থেকে জার্মান বিমানবাহিনী ‘লুফটওয়াফে’ পোল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে বোমাবর্ষণ শুরু করে। বিশেষ করে সীমান্ত সংলগ্ন শহরগুলোতে সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে বোমা ফেলা হচ্ছে। জার্মান বাহিনীর এই নতুন রণকৌশলকে সামরিক বিশেষজ্ঞরা ‘ব্লিৎসক্রিগ’ বা ‘বিদ্যুৎগতির যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
সাজানো নাটক ও হিটলারের ভাষণ
আক্রমণের কয়েক ঘণ্টা আগে বার্লিন থেকে দেওয়া এক রেডিও ভাষণে অ্যাডলফ হিটলার দাবি করেন, পোল্যান্ড আগে জার্মানি আক্রমণ করেছে এবং তাঁর দেশ কেবল তার জবাব দিচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, গতকাল রাতে গ্লিবিতস রেডিও স্টেশনে পোলিশ পোশাকে নাৎসি বাহিনীর হামলা ছিল একটি ‘সাজানো নাটক’, যা মূলত যুদ্ধ শুরুর অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
অবরুদ্ধ পোল্যান্ডের প্রতিরোধ
জার্মান ট্যাঙ্ক বাহিনী (প্যানজার) পোলিশ সীমান্ত ভেঙে ভেতরের দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। পোল্যান্ডের সাহসী অশ্বারোহী এবং পদাতিক বাহিনী আধুনিক জার্মান ট্যাঙ্কের সামনে প্রাণপণ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও আকাশপথে আধিপত্য বিস্তার করায় নাৎসিরা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। পোলিশ সরকার রাজধানী ওয়ারশ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ব্রিটেন ও ফ্রান্সের আল্টিমেটাম
পোল্যান্ডে হামলার খবর পাওয়ার পরপরই নড়েচড়ে বসেছে লন্ডন ও প্যারিস। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নেভিল চেম্বারলেইন জার্মানিকে অবিলম্বে পোল্যান্ড থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের চরমপত্র (আল্টিমেটাম) দিয়েছেন। অন্যথায় ব্রিটেন ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা করবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
একনজরে পোল্যান্ড আক্রমণ:
আক্রমণের সময়: ১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯, ভোর ৪:৪৫ মিনিট।
প্রথম লক্ষ্যবস্তু: ওয়েস্টারপ্লাট বন্দর ও ডব্লিউটিপি (WTP) গ্যারিসন।
জার্মান বাহিনী: ১৫ লাখ সৈন্য, ২ হাজার যুদ্ধবিমান এবং ২,৫০০ ট্যাঙ্ক।
প্রধান রণকৌশল: ‘ব্লিৎসক্রিগ’ বা বিদ্যুৎগতির হামলা।
পোল্যান্ডে নাৎসি আক্রমণের এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে এই সংঘাত মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও রক্তক্ষয়ী মহাযুদ্ধে রূপ নিতে যাচ্ছে।




Comments