বয়স ৩৪ বছর পেরিয়ে গেলেও উচ্চতা মাত্র ৪০ ইঞ্চি। দেখতে অনেকটা শিশুর মতো। শিশুদের সঙ্গে সারাদিন খেলাধুলা করেই সময় কাটে। কখনো বাবার হাত ধরে হাঁটেন, আবার কখনো শিশুদের মতোই দোকানে গিয়ে কিছু কিনে খান। নাম আছির উদ্দিন ওরফে ছমির। ছোট শিশুর মতো জীবনযাপন করলেও তার ছোট ভাই-বোনেরা বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন। দারিদ্র্যের কারণে উন্নত চিকিৎসা না পাওয়ায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার ভবিষ্যৎ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের পশ্চিম ছাট-গোপালপুর (চেয়ারম্যানপাড়া) গ্রামের হতদরিদ্র আজিম উদ্দিন ও আছিয়া বেগম দম্পতির সন্তান আছির উদ্দিন ওরফে ছমির। তিন ভাই-বোনের মধ্যে আছির সবার বড়। বাবা অসুস্থ। পরিবারের তেমন কোনো আয়-রোজগার নেই। ছমিরের শারীরিক সমস্যাটি জটিল ও ব্যয়বহুল হওয়ায় অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নানা শারীরিক সমস্যা নিয়ে শিশুর মতোই জীবন কাটছে তার। স্বাভাবিকভাবে মানসিক বিকাশও ঘটেনি।
গ্রামের অন্যান্য শিশুরাও আছির উদ্দিনের সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যে খেলাধুলা করে। জন্মতারিখ ২৪ মে ১৯৯২ অনুযায়ী তার বয়স ৩৪ বছর। অথচ তাকে দেখতে অনেকটা শিশুর মতো। শিশুদের সঙ্গে সারাদিন খেলাধুলা করেন এবং অর্ধাহার-অনাহারে জীবনযাপন করছেন।
চিকিৎসকদের মতে, জন্মগত ত্রুটির কারণে এ ধরনের শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন কেউ। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি করা সম্ভব বলেও তারা মনে করেন।
আছির উদ্দিন ওরফে ছমিরকে বাড়ির বাইরে শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলায় মগ্ন অবস্থায় দেখা যায়। কখনো বাবার হাত ধরে বাজারে বা অন্য কোথাও যান। আবার কখনো বাড়ির পাশের দোকানে গিয়ে শিশুদের মতোই কিছু কিনে খান। ৩৪ বছর বয়স হলেও তার জীবনযাপন এখনো শিশুর মতো। অন্যদিকে তার ছোট ভাই-বোনেরা বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন এবং সন্তানও রয়েছে।
আছির উদ্দিনের বাবা আজিম উদ্দিন জানান, জন্মের পর থেকেই আছির অন্যদের তুলনায় অস্বাভাবিক ছিল। বয়স বাড়লেও তাকে শিশুর মতোই লালন-পালন করতে হয়েছে। ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে বিভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছেন। চিকিৎসকেরা তাকে জানিয়েছেন, তার ছেলে স্বাভাবিক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা কম। এরপরও মাঝেমধ্যে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “এখন ছেলের ঘাড়ে সমস্যা, পেটে সমস্যা, আরও অনেক শারীরিক সমস্যা রয়েছে। তাকে সবসময় একজনের সঙ্গে থাকতে হয়। গোসল করিয়ে দিতে হয়, খাওয়াতে হয়, জামাকাপড়ও পরিয়ে দিতে হয়। সংসারে আমাদের অনেক কষ্ট। তারপরও ছেলেকে আদর-যত্নে রেখেছি। মাঝে মাঝে চিন্তা করি, আমি মারা গেলে আমার ছেলেটাকে কে দেখবে? এই চিন্তায় ভালো লাগে না।”
প্রতিবেশী এমদাদুল হক, শাহিনুর রহমান, মোফাজ্জল হোসেন ও আইনুল হক জানান, ছোটবেলা থেকেই তারা আছির উদ্দিন ওরফে ছমিরকে প্রতিবন্ধিতার মতো শারীরিক অবস্থায় দেখে আসছেন। তিনি সবসময় ছোট শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করেন। বয়স ৩৪ বছর হলেও শারীরিকভাবে স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটেনি। শিশুদের সঙ্গেই তার বেশিরভাগ সময় কাটে। কোনো ধরনের কাজকর্ম করার সক্ষমতাও নেই। বর্তমানে তিনি প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন।
কুড়িগ্রামের সাবেক সিভিল সার্জন চিকিৎসক স্বপন কুমার বলেন, মায়ের গর্ভাবস্থায় ত্রুটিজনিত কারণে এ ধরনের খর্বাকৃতির শিশুর জন্ম হতে পারে। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে আছির উদ্দিনকে কিছুটা হলেও সুস্থ করে তোলা সম্ভব বলে তিনি জানান।
এসএ




Comments