ইরানের সামরিক কৌশলে পুতিনের ‘গোপন হাত’, দাবি ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা ও ড্রোন হামলার কৌশলের পেছনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা বা ‘গোপন হাত’ রয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জন হিলি এক মন্তব্যে জানিয়েছেন, ইরান এখন ড্রোন পরিচালনার ক্ষেত্রে রুশ সামরিক কৌশল অনুসরণ করছে, যা পশ্চিমা বাহিনীর জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উত্তর-পশ্চিম লন্ডনে ব্রিটিশ সামরিক সদর দপ্তরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর হিলি জানান, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া যেভাবে ‘শাহেদ’ ড্রোন ব্যবহার করে সাফল্য পেয়েছে, ইরানও এখন মধ্যপ্রাচ্যে সেই একই পথে হাঁটছে। বিশেষ করে ড্রোনগুলোকে অনেক নিচ দিয়ে উড়িয়ে রাডার ফাঁকি দেওয়ার কৌশলটি রাশিয়ার পরামর্শে হচ্ছে বলে ধারণা করছে ব্রিটিশ গোয়েন্দারা।
জন হিলি বলেন, "বর্তমানে বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম থেকে যদি কোনো বিশ্বনেতা সবচেয়ে বেশি লাভবান হন, তবে তিনি পুতিন। তেলের এই বাড়তি দাম তার ইউক্রেন যুদ্ধের তহবিল জোগান দিচ্ছে।" গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর ইরান ইতিমধ্যেই ২,০০০-এর বেশি ড্রোন ছুড়েছে এবং ইরাকের ইরবিলে ব্রিটিশ সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা তাদের অবস্থান থেকে এক চুলও নড়বে না। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা অব্যাহত রাখা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আন্ডারওয়াটার ড্রোন হামলার শিকার হয়ে তেলবাহী ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেলের দাম বৃদ্ধিতে ভ্রুক্ষেপ না করলেও, ইরানের শীর্ষ নেতা আলি লারিজানি তাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, "যুদ্ধ শুরু করা সহজ, কিন্তু টুইট করে তা জেতা যায় না।" সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে ইরান ও রাশিয়ার এই ছায়াযুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments