যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখলে হরমুজ প্রণালী আবারও বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান।
লেবাননে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর শুক্রবার ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিয়েছে, যা শান্তি আলোচনা নিয়ে আশাবাদ জাগিয়েছে। তবে তেহরান সতর্ক করেছে যে, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অব্যাহত থাকলে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি পুনরায় বন্ধ করে দিতে পারে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা করেছেন যে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের একটি সংকীর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ পথ এই প্রণালীটি, বৃহস্পতিবার ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে মার্কিন মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির বাকি সময়টুকুতে সকল বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
শুক্রবার অ্যারিজোনার এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন , আরাকচির এই ঘোষণা "বিশ্বের জন্য একটি মহান ও উজ্জ্বল দিন"।
কিন্তু উভয় পক্ষের পরবর্তী বিবৃতি ও স্পষ্টীকরণ নৌপরিবহন কত দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং শুক্রবার কিছু জাহাজকে প্রণালীটি অতিক্রম করার ব্যর্থ চেষ্টা করে ফিরে যেতে দেখা গেছে।
ট্রাম্প বলেছেন, গত সপ্তাহান্তে ইরানের সঙ্গে আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর ইরানি বন্দরে চলাচলকারী জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে অবরোধ আরোপ করেছে, তা বহাল থাকবে। তিনি জানান, “ইরানের সঙ্গে আমাদের লেনদেন শতভাগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত” এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যেল ইরান এর কড়া জবাব দিয়েছে। দেশটির সংসদ স্পিকার ও জ্যেষ্ঠ আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে বলেছেন, মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে এই প্রণালীটি, যা দিয়ে কিছুদিন আগেও বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল বাণিজ্য হতো, “আর খোলা থাকবে না”।
তিনি আরও বলেন, শুক্রবার ট্রাম্প শান্তি আলোচনা নিয়ে একাধিক মিথ্যা দাবি করেছেন।
ইরান বলেছে, সব জাহাজকে অবশ্যই ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে, যা যুদ্ধের আগে এমনটা ছিল না। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো ‘শত্রু শক্তির’ সঙ্গে যুক্ত সামরিক জাহাজ ও নৌযানগুলোকে এখনও যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।




Comments