ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধাবস্থার কারণে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী মূল্যের প্রভাবে ব্রিটেনে পেট্রোল ও ডিজেলের বিক্রিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ২০২০ সালের নভেম্বরে করোনা মহামারীর দ্বিতীয় লকডাউনের পর এই প্রথম দেশটিতে জ্বালানি বিক্রিতে এত দ্রুত গতিতে পতন দেখা গেল।
ব্রিটেনের জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয় (ওএনএস) জানিয়েছে, গত এপ্রিল মাসে মোটর জ্বালানির বিক্রি ১০.২ শতাংশ কমেছে। পরিবারগুলো অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমিয়ে দেওয়া এবং তেলের ট্যাঙ্ক পূর্ণ করা থেকে বিরত থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জ্বালানি বিক্রিতে এই তীব্র পতনের ফলে ব্রিটেনের সামগ্রিক খুচরা বিক্রির হারও ১.৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর পেট্রোলের দাম যে পর্যায়ে ছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানের ওপর হামলার পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে প্রতি লিটার পেট্রোলে প্রায় ২৬ পেন্স এবং ডিজেলে ৪৩ পেন্স পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।
আরএসি-র তথ্যমতে, বর্তমানে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১৫৯.২৩ পেন্স এবং ডিজেলের গড় দাম ১৮৫.৩৪ পেন্স।
ওএনএস-এর অর্থনীতিবিদ গ্রান্ট ফিটজনার জানান, মার্চ মাসে দাম বাড়ার আশঙ্কায় অনেক চালক আগেভাগে তেল মজুত করেছিলেন। কিন্তু এপ্রিলে দাম ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়ায় তারা জ্বালানি সাশ্রয় শুরু করেছেন।
এএ (AA)-এর মুখপাত্র লুক বোসডেট এই পরিস্থিতির জন্য খুচরা বিক্রেতাদের ‘রকেট ও পালক’ (দাম বাড়ানোর সময় দ্রুত এবং কমানোর সময় ধীরগতি) নীতিকে আংশিকভাবে দায়ী করেছেন।
এই জ্বালানি সংকটের ফলে ব্রিটেনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্যান্থিয়ন ম্যাক্রোইকোনমিক্স সতর্ক করেছে যে, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ০.৬ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ০.১ শতাংশে নেমে আসতে পারে।
ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের অর্থনীতিবিদ রুথ গ্রেগরি মনে করেন, ব্রিটেনের ডাউনিং স্ট্রিটে (প্রধানমন্ত্রী) যিনিই থাকুন না কেন, এই ক্রমশ অবনতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মোকাবিলা করাই হবে তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আকাশচুম্বী দাম এবং যুদ্ধের অনিশ্চয়তা সাধারণ ভোক্তাদের কেবল যাতায়াতই নয়, বরং সামগ্রিক ব্যয় সংকোচনে বাধ্য করছে, যা ব্রিটিশ অর্থনীতির জন্য একটি অশনি সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।




Comments