গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন একটি জানাজার নামাজ ও দাফন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সময় ড্রোন হামলার শিকার হন।
গাজার সিভিল ডিফেন্স ও আল-আওদা হাসপাতালের তথ্যমতে, মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় এক সমাবেশে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় আটজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জানাজার নামাজ শেষে মরদেহ বহন করার সময় আহমেদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে অপেক্ষমাণ শোকাহত মানুষের ওপর ড্রোন থেকে বোমা ফেলা হয়।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী হামলার কথা স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা মধ্য গাজায় একটি ‘সন্ত্রাসী সেল’ লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক হতাহতের খবর খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও দাবি করেছে তারা। অন্যদিকে হামাস এ হামলাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রকাশ্য লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।
এদিন গাজার বিভিন্ন এলাকাতেও পৃথক হামলায় আরও কয়েকজন নিহত হন। বেইত লাহিয়ায় এক নারী, আজ-জাওয়ায়দায় একজন, আল-সাওয়ারহায় বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়শিবিরে একজন এবং গাজা সিটির একটি অ্যাপার্টমেন্টে ড্রোন হামলায় একজন নিহত হন। এছাড়া খান ইউনিসে গুলিবিদ্ধ এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মে মাস থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলার তীব্রতা বেড়েছে। গত মাসে ৪০টির বেশি বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যা যুদ্ধবিরতির পর এক মাসে সর্বোচ্চ। ইসরাইলি সংবাদপত্র হারেৎজ জানিয়েছে, গত নয় মাসে গড়ে প্রতিদিন একজন করে ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা




Comments