রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী জনপ্রিয় রিসোর্ট শহর গেলেন্দঝিকের একটি জনবহুল সমুদ্রসৈকতে ড্রোন হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন। আহতদের মধ্যে ২১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের নয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সোমবার রুশ কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়। তবে হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইউক্রেইনের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, গেলেন্দঝিক শহরের আরখিপো-ওসিপোভকা অবকাশকেন্দ্রের ব্যস্ত সমুদ্রসৈকতে একটি ড্রোন আঘাত হানার পর বিকট বিস্ফোরণ ঘটে।
ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কোন্দ্রেতিয়েভ এ ঘটনাকে বেসামরিক মানুষের ওপর কিয়েভের ‘পরিকল্পিত হামলা’ বলে অভিযোগ করেছেন। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ হামলার সঙ্গে কোনো সামরিক স্থাপনার সম্পর্ক নেই; সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করেই এটি চালানো হয়েছে।
তবে ড্রোনটি সরাসরি সৈকতে আঘাত করেছে, নাকি রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের কারণে গতিপথ পরিবর্তন হয়ে সেখানে বিধ্বস্ত হয়েছে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এ হামলাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দিয়ে এর জন্য ইউক্রেইনকে দায়ী করেছেন।
যদিও ইউক্রেইন এ ঘটনায় এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে উভয় পক্ষই দাবি করে আসছে, তারা বেসামরিক স্থাপনা বা সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। তবে যুদ্ধের সময় দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে বেসামরিক এলাকায় হামলার অভিযোগ করে আসছে।
সম্প্রতি ইউক্রেইন রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়াও ইউক্রেইনের বিভিন্ন শহরে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দুই দেশেই বহু বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।




Comments