পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেটেলারদের নারকীয় তাণ্ডব, ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়িতে হামলা
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা (সেটেলার) ভয়াবহ তাণ্ডব শুরু করেছে। ইসরাইলি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ মদদে গ্রামের পর গ্রামে ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করছে তারা। এমনকি গুলিবিদ্ধদের উদ্ধার করতে আসা অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা চালানো হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার বেথলেহেমের আবু নুজাইম গ্রামে ব্যাপক হামলা চালায় সশস্ত্র সেটেলাররা। তারা ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছুড়লে বেশ কয়েকজন হতাহত হন। স্থানীয়রা জানায়, গুলিবিদ্ধদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্সে আক্রমণ করে ইসরাইলিরা। তারা গাড়ির জানালা ভেঙে চিকিৎসাকর্মীদের লক্ষ্য করে মরিচের গুঁড়া স্প্রে করে, এতে প্যারামেডিকরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে গ্রামের প্রধান সড়কও দীর্ঘক্ষণ অবরোধ করে রাখে হামলাকারীরা।
একই চিত্র দেখা গেছে হেবরনের মাসাফের ইয়াত্তায়। সেখানে তুবা এলাকায় ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ফলে ১৪ জন শিশুসহ তিনটি পরিবার সম্পূর্ণ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এ সময় তাদের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও গবাদি পশুর বিপুল পরিমাণ খাদ্য পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, বছরের প্রথম সাত মাসেই ইসরাইলিদের এই পরিকল্পিত হামলায় ২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (পিআরসিএস) জানিয়েছে, নাবলুসের বেইত ফুরিক ও বেথলেহেম গভর্নরেট জুড়ে শুক্রবারের হামলায় অন্তত ছয়জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীরা যৌথভাবে এসব অভিযান চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে গাজায় যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের তৎপরতা কিছুটা কমলেও মানবিক পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে যাচ্ছে। তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা লাখো মানুষের জীবন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়। বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট, অতিরিক্ত ভিড় ও ইঁদুরের উপদ্রবে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নানা সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। যুদ্ধবিরতি ও ত্রাণ কার্যক্রমের মন্থর গতির কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী’তে সেনা পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে উগান্ডার পার্লামেন্ট। এছাড়া মরক্কোও এই বাহিনীতে সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত ধাপ সম্পন্ন হলে গাজার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় এই আন্তর্জাতিক বাহিনীকে মোতায়েন করা হবে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments