নেত্রকোণা শহরের প্রাণকেন্দ্র বড়বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতটি দোকান ও তিনটি টিনশেড আধাপাকা বসতঘর পুড়ে গেছে। মুহূর্তের আগুনে ব্যবসায়ীদের স্বপ্ন, পুঁজি ও সাজানো সংসারের অসংখ্য স্মৃতি ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে নষ্ট হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার সার্ভিসের তিন কর্মীসহ মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বড়বাজারের একটি দোকান থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের ভয়াবহ লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের দোকান ও বসতঘরে। একের পর এক দোকান ও ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে মানুষ ছোটাছুটি শুরু করেন। ব্যবসায়ীরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী মালামাল বের করার চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতার কারণে অনেকেই কিছুই রক্ষা করতে পারেননি।
খবর পেয়ে নেত্রকোণা ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষ, পুলিশ, বিজিবি ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকেরা সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন। প্রায় দুই ঘণ্টার প্রাণপণ চেষ্টায় আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে বিভিন্ন স্থানে আগুন ও ধোঁয়া থাকায় ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করে সম্পূর্ণভাবে আগুন নেভাতে সক্ষম হন।
আগুন নেভানোর সময় ফায়ার সার্ভিসের তিনজন কর্মী এবং দোকানে থাকা আরও দুজন আহত হন। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নেত্রকোণা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার খানে আলম খান জানান, প্রাথমিকভাবে বিদ্যুতের গোলযোগ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে অন্তত দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব পাওয়া গেলেও ব্যবসায়ীদের মালামাল ও বসতঘরের সম্পদের প্রকৃত মূল্য বিবেচনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দুই কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এদিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান ও পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের চোখে এখন শুধু সর্বনাশের ছাপ। যে দোকান ছিল তাদের জীবিকা ও পরিবারের একমাত্র অবলম্বন, রাতের আগুনে সেটিই পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। কেউ হারিয়েছেন বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা ব্যবসার পুঁজি, কেউ হারিয়েছেন ঘর ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী। ক্ষতিগ্রস্তদের কান্নায় বড়বাজারের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।




Comments