কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একগুচ্ছ কঠোর শর্ত দিয়েছে ইরান। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও এই জলপথ উন্মুক্ত করার বিষয়ে এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ। এর মধ্যেই প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি তেলবাহী জাহাজে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে।
ইরানের কঠোর শর্তসমূহ:
শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের আচরণ পরিবর্তন না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না। পরিষদের সচিব ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর যুক্তরাষ্ট্রের সামনে যে শর্তগুলো তুলে ধরেছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১. ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আর কোনো হুমকি না দেওয়ার নিশ্চয়তা।
২. ইরান ও এর আঞ্চলিক মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।
৩. ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।
৪. মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে সব মার্কিন সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেওয়া।
৫. যুদ্ধের কারণে ইরানের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৬. সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ নিঃশর্তভাবে মুক্ত করা।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, নৌ চলাচল নিয়ে একটি বিশেষ ট্রানজিট রুট তৈরির ক্ষেত্রে দুই পক্ষ কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তবে প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অন্যান্য শর্ত পূরণের ওপর। ওমান এই আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে এবং আলোচনার পরিবেশকে ‘ইতিবাচক’ বলে বর্ণনা করেছে। যদিও হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ইরানের টোল আদায়ের চেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করছে ওয়াশিংটন।
আলোচনা চলাকালীনই শনিবার হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল-গ্যাস কোম্পানি ‘অ্যাডনক’-এর একটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অংশ হিসেবে ইরান এই প্রজেক্টাইল ছুড়েছে। তবে অ্যাডনক জানিয়েছে, হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমানের খাসাব শহরের পূর্বে একটি জাহাজে আঘাত হানার পর আগুন ধরে গিয়েছিল, যা পরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
গত জুনে স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির পর পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছাতে দুই পক্ষকে ৬০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল, যার মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। ইরান বর্তমানে কার্যত হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে রেখেছে এবং তাদের নির্ধারিত রুট না মানা জাহাজগুলোতে বারবার হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান দ্রুত সমঝোতার পক্ষে থাকলেও সামরিক ও কৌশলগত শর্তগুলোর বিষয়ে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় তেহরান। দুই দেশের এই অনড় অবস্থানের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments