মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া কাঠামো চুক্তি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার সকালে চালানো এসব হামলায় হতাহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র জানায়, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকায় হামলায় দু’জন নিহত ও দু’জন আহত হয়েছেন। নাবাতিয়েহ শহরের আল-রাহিবাত মহল্লায় এক নারী ও এক কিশোরীসহ আটজন আহত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, আরব সালিম এলাকায় দুজন নারী নিহত এবং দুজন কিশোরীসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। এছাড়া কাফার রেম্মানে চারজন নারী আহত হয়েছেন।
এর আগে লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানায়, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান আরব সালিমের একটি বাড়িতে হামলা চালালে দুজন নারী নিহত ও ছয়জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে নাবাতিয়েহ এলাকার হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
এনএনএর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান আরব সালিমের আরেকটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে সেটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়।
ভোর থেকে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ধারাবাহিকভাবে হামলা চালায় বলেও জানায় সংস্থাটি। হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে নাবাতিয়েহ জেলার কাফার রেম্মান এলাকার সাবেক মেয়র আলি মোয়াল্লেমের বাড়িও ছিল। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা একটি ড্রোন শনাক্ত করে আটক করেছে। তাদের অভিযোগ, ড্রোনটি দক্ষিণ লেবাননের একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীর দিকে হিজবুল্লাহ পাঠিয়েছিল। এরপর সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা আরও তীব্র হয়েছে।
গত ২৬ জুন স্বাক্ষরিত মার্কিন-সমর্থিত কাঠামো চুক্তির মধ্যেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিনিময়ে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের ব্যবস্থা রয়েছে।
লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে ৪ হাজার ৩৫৮ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৩৫৯ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
এমআর




Comments