Image description

বিশ্ব এখন শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কার মুখে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা সতর্ক করেছে, এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চরম আবহাওয়া দেখা দিতে পারে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এবারের এল নিনো আগের অনেক রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে।

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত ঘটনা। প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা ও বায়ুপ্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে এল নিনো তৈরি হয়। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে এবং আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধরন বদলে যেতে পারে।

কেন এবারের এল নিনো আলাদা?

বিজ্ঞানীরা প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষরেখার কাছাকাছি পানির তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করে এল নিনোর শক্তি পরিমাপ করেন। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর সামগ্রিক তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও হিসাবের মধ্যে নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমান এল নিনো দুটি কারণে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, এটি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় আগেই শক্তিশালী হয়ে উঠছে। সাধারণত নভেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে এল নিনো সবচেয়ে শক্তিশালী হয়। কিন্তু এবারের এল নিনো মৌসুমের শুরুতেই অস্বাভাবিক উষ্ণতা তৈরি করছে।

দ্বিতীয়ত, এর তীব্রতাও অনেক বেশি। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে এর আপেক্ষিক সূচক স্বাভাবিকের তুলনায় ২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। এটি আগের অনেক এল নিনোর তুলনায় বেশি শক্তিশালী।

বিশ্বজুড়ে কী প্রভাব পড়তে পারে?

এল নিনোর কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার ধরন বদলে যেতে পারে। কোথাও অতিরিক্ত গরম ও খরা দেখা দিতে পারে, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ায় সাম্প্রতিক দাবানলের পেছনেও এল নিনোর প্রভাব থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান ও তৈরির ধরনও বদলে যেতে পারে। বর্তমানে জাপানের কাছাকাছি এলাকা থেকে হাওয়াই পর্যন্ত প্রশান্ত মহাসাগরে একাধিক সক্রিয় ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় রয়েছে, যা অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অস্ট্রেলিয়াতেও বাড়ছে তাপমাত্রা

অস্ট্রেলিয়ায় এল নিনোর প্রভাব এখনো তুলনামূলক কম হলেও সামনে তা আরও বাড়তে পারে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এল নিনোর প্রভাবে সেখানে আবহাওয়া আরও গরম ও শুষ্ক হতে পারে।

ইতোমধ্যে উত্তর অস্ট্রেলিয়ার কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে শুষ্ক আবহাওয়াও বাড়ছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এল নিনোর প্রভাব প্রতিবার এক রকম হয় না। তবে শক্তিশালী এল নিনো হলে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

এসএস