Image description

ইতালির ভেনিসে অবস্থানরত জনপ্রিয় বাংলাদেশি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সিসিটিভি ফুটেজ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করতে মাঠে নেমেছে ইতালীয় পুলিশের একটি বিশেষ শাখা। 

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ইতালির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ইল গাজ্জেত্তিনো’ এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ‘ওরিয়ন্তি’ বিভাগে নির্বাচিত রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ চলচ্চিত্রের প্রতিনিধি হিসেবে ভেনিসে অবস্থান করছেন বাঁধন। ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় অবস্থানকালে আওয়ামী লীগের স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ বলে অভিহিত করে গালাগাল করার পাশাপাশি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।

বাঁধন সোমবার দিবাগত রাতে ফেসবুক লাইভে এসে ঘটনার ভয়াবহ বর্ণনা দেন। তিনি জানান, ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে পার্কে থাকা অবস্থায় একদল প্রবাসী বাঙালি তাঁর ওপর চড়াও হয়। হামলাকারীরা তাঁর ফোন কেড়ে নিয়ে ফেলে দেয়, কানের পাশে আঘাত করে এবং গায়ে পানি ও কোল্ড ড্রিংকস ছুড়ে মারে। এছাড়া তাঁকে জোরপূর্বক ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। 

বাঁধন ক্ষোভের সাথে বলেন, “আমি অবশ্যই জুলাই যোদ্ধা, কারণ আমি আন্দোলনে অংশ নিয়েছি। তারা আমাকে দমাতে চায়, কিন্তু আমি থামব না।”

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার খবর ইতালীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর ভেনিস পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। ‘ইল গাজ্জেত্তিনো’ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।

এদিকে, বাঁধনের ওপর এই হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। অভিনেত্রী পরী মণি, পিয়া জান্নাতুল, জাকিয়া বারী মম, সাফা কবির, সাদিয়া জাহান প্রভা ও শাহরিয়ার নাজিম জয়সহ অনেক তারকা সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং বিদেশে শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন। 

এর আগে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও এই হামলাকে ‘অমার্জনীয় ও নিন্দনীয় অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ডিআর