Image description

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভিসা না পাওয়ায় আসন্ন জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সরাসরি যোগ দিতে পারছেন না ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। ফলে নিউইয়র্কের বিশ্বমঞ্চে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ভাষণ দেবেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টকে ভিডিওতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে একটি বিশেষ প্রস্তাব পাস হয়েছে। ১৫২টি দেশের সমর্থনে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। প্রস্তাবের বিপক্ষে মাত্র ৩টি দেশ ভোট দেয় এবং ৪টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।

গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী, কেবল প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসই নন, আগামী এক বছর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা জটিলতা বা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে কোনো উচ্চপর্যায়ের ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা সরাসরি জাতিসংঘ কার্যালয়ে পৌঁছাতে না পারলে তারা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যেকোনো সভা বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে পারবেন।

উল্লেখ্য, গত বছর মাহমুদ আব্বাসসহ ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) এবং পশ্চিম তীরভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) প্রায় ৮০ জন কর্মকর্তার ভিসা প্রত্যাখ্যান ও বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র। গত বুধবার এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ওপর চলা এই ভিসা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।

ভোট গ্রহণের আগে জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি রাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস বলেন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করতে হলে তাদের ‘সন্ত্রাসে অর্থায়ন’ বন্ধ করতে হবে এবং ‘কূটনৈতিক নাটকের’ বদলে দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে ‘আন্তর্জাতিকীকরণের’ চেষ্টা চালানো এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করার কারণে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শীর্ষ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ভিসা আবেদনও সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিন নেতৃত্ব। সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনের দূত রিয়াদ মানসুর মার্কিন সিদ্ধান্তের কঠোর বিরোধিতা করেন।

সাধারণভাবে ১৯৪৭ সালের জাতিসংঘের ‘হেডকোয়ার্টার্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ অনুযায়ী, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক বিদেশি কূটনীতিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুবিধা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে জাতীয় নিরাপত্তা, চরমপন্থা ও পররাষ্ট্রনীতির সুনির্দিষ্ট অজুহাত তুলে ধরে মার্কিন প্রশাসন ভিসা প্রত্যাখ্যান করার এই সুযোগ নিয়ে আসছে।

ডিআর