জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বক্তব্যের প্রতিবাদে তার ভাষণ বর্জন করে অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে বের হয়ে যান কিউবার প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
মঙ্গলবারের ভাষণে ট্রাম্প কিউবার কমিউনিস্ট সরকারকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দেশটির বর্তমান সরকার ‘পতনের’ দিকে এগোচ্ছে। তার বক্তব্যের সময়ই কিউবার প্রতিনিধিরা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসন কিউবার পরিস্থিতিতে ‘মৌলিক পরিবর্তন’ আনতে কাজ করছে। তাঁর দাবি, কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের ওপর বর্তমানে ‘তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চাপ’ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘কমিউনিজম কখনো আমেরিকায় আসবে না, তবে স্বাধীনতা কিউবায় আসবে।’
ট্রাম্পের বক্তব্যের একটি পর্যায়ে কিউবার প্রতিনিধিদের অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের নতুন প্রকাশ হিসেবে সামনে আসে।
ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে কিউবার ওপর চাপ বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে কিউবার ওপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হাভানার সরকারের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। ট্রাম্প জাতিসংঘে বলেন, কিউবার সঙ্গে আলোচনায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যুক্ত রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার ‘নিজের দোরগোড়ায়’ কোনো বিদেশি প্রতিপক্ষের জন্য কিউবাকে আশ্রয়স্থল হতে দেবে না।
কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈরিতা নতুন নয়। ১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে বিপ্লবের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে বৈরিতাপূর্ণ। ওয়াশিংটনের বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা ও কিউবার রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে কয়েক দশক ধরে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ চলছে।
কিউবা ছাড়াও ট্রাম্পের ভাষণে ইরান, ইউক্রেন, ভেনেজুয়েলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। ইরান প্রসঙ্গে তিনি দেশটির সঙ্গে সমঝোতা না হলে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস’ করার হুমকি দেন। পরে অবশ্য ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনার কথাও বলেন। ভাষণে ট্রাম্প কিউবার পাশাপাশি ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে লাতিন আমেরিকায় মার্কিন প্রভাব ও নিরাপত্তা নীতির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
এদিকে জাতিসংঘে ট্রাম্পের বক্তব্যের সময় শুধু কিউবার প্রতিনিধিরাই প্রতিবাদ জানাননি। ইরানের প্রতিনিধিদলের বেশির ভাগ সদস্যও ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্য শুরু হওয়ার পর অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। ফলে এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ট্রাম্পের ভাষণ ঘিরে একাধিক দেশের প্রতিনিধিদলের প্রকাশ্য অসন্তোষও দেখা গেছে।
কিউবার প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট অবশ্য দুই দেশের দীর্ঘদিনের বৈরিতার প্রেক্ষাপটেই ঘটেছে। ট্রাম্প প্রশাসন হাভানার ওপর চাপ বাড়ানোর অবস্থান অব্যাহত রাখায় জাতিসংঘের মঞ্চে তাঁর কিউবা-সংক্রান্ত বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
তথ্য সূত্র- ওয়াশিংটন টাইমস।
এমআর




Comments