সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে সৌদি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হলি মস্কস’। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, কাবা শরিফের হাজরে আসওয়াদের কাছে এক নারী ও পুরুষের ভিডিওটির সঙ্গে ওই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ‘দ্য হলি মস্কস’-এর এক্স অ্যাকাউন্টের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করে খালিজ টাইমস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর মক্কার একটি মসজিদে অশালীন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ। এ খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজরে আসওয়াদের কাছে এক নারী ও পুরুষের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে ভিডিওটিকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে বিভিন্ন ধরনের দাবি প্রচার করা হয়।
তবে ‘দ্য হলি মস্কস’ জানিয়েছে, ভিডিওটির সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনার কোনো যোগসূত্র নেই। ভিডিওটি ওই ঘটনার প্রমাণ হিসেবেও ব্যবহার করা যায় না। ফলে ভিডিওটি ঘিরে ছড়িয়ে পড়া সংশ্লিষ্ট দাবিগুলোকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নাম উল্লেখ করা হয় নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার। তবে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ, ঘটনার পরিস্থিতি কিংবা সংশ্লিষ্ট মসজিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
এ কারণে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে ঘটনার সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন দাবি সামনে এলেও সৌদি সংবাদমাধ্যমের বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছে, ভিডিওটি এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়।
এদিকে, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি আরবের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছিল, কীভাবে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং কোন প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনকে বিষয়টি জানিয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সরকারি নথির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কোনো ভিডিওর সঙ্গে ঘটনার যোগসূত্র নিশ্চিত না হয়ে সেটিকে প্রমাণ হিসেবে প্রচার করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এমআর




Comments