Image description

উৎসবের আনন্দ মুহূর্তে রূপ নিল মৃত্যু ও আতঙ্কে। যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পৃথক বন্দুক হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৯২ জন আহত হয়েছেন। হ্যালোইন পার্টি, ফুটবল ম্যাচ ও জনসমাগমস্থল লক্ষ্য করে চালানো এসব নির্বিচার হামলায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সহিংস ও রক্তক্ষয়ী হ্যালোইন উইকেন্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়া, অ্যালাবামা, মিশিগান, ডেলাওয়্যার, ক্যানসাস, টেক্সাস ও ফ্লোরিডাসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে এসব হামলার ঘটনা ঘটে:

ক্যালিফোর্নিয়া: হ্যালোইনের আগের দিন ক্যালিফোর্নিয়ার ফেয়ারফিল্ডে ‘স্পিরিট হ্যালোইন’ নামের একটি দোকানে বন্দুকধারীর নির্বিচার গুলিতে ৩১ বছর বয়সী এক অন্তঃসত্ত্বা নারী নিহত হন।

অ্যালাবামা: শনিবার রাতে বার্মিংহামে ‘ম্যাজিক সিটি ক্ল্যাসিক’ ফুটবল ম্যাচ শেষে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। লিজিয়ন ফিল্ড স্টেডিয়ামের কাছে প্রথম হামলায় ১ জন নিহত ও ৮ জন আহত হন। এর কিছুক্ষণ পর নিকটস্থ একটি দোকানে হামলায় আরও ৬ জন গুলিবিদ্ধ হন, যাদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মিশিগান ও ডেলাওয়্যার: মিশিগানের ফ্লিন্ট শহরে এক হ্যালোইন পার্টিতে গুলিতে ১ নারী নিহত এবং ৩ জন আহত হন। অন্যদিকে, ডেলাওয়্যারের এলেনডেলে একটি পার্টিতে গুলিতে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী নিহত ও ৮ জন আহত হন। এর ১ ঘণ্টার মধ্যে ডেলাওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আরেক হামলায় আরও ৬ জন আহত হন।

অন্যান্য অঙ্গরাজ্য: ক্যানসাসে পার্টি শেষে গোলাগুলিতে ৪ জন, টেক্সাসের এডিনবার্গে ৭ জন এবং ইলিনয় ও ইন্ডিয়ানার ব্লুমিংটনে পৃথক ঘটনায় ১৪ জন আহত হন। ব্লুমিংটনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীর মৃত্যু হয়। এছাড়া মিসিসিপির জ্যাকসনে এক নৈশক্লাবে গুলিতে ২ জন নিহত ও ৪ জন আহত হন। ডালাসের ডিপ এলাম এলাকায় তিনটি পৃথক হামলায় ৪ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হন। ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলে দুটি পার্টিতে রক্তক্ষয়ী গোলাগুলিতে ২ জন নিহত ও ১১ জন আহত হন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএনের যৌথ পর্যালোচনায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪০০টি নির্বিচার গুলিবর্ষণের (Mass Shooting) ঘটনা ঘটেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে গড়ে প্রতিদিন একটিরও বেশি স্থানে এ ধরনের নির্বিচার হামলা ও সহিংসতা ঘটছে।

হ্যালোইনের মতো সর্বজনীন উৎসবে এমন ভয়াবহ রক্তপাতের পর দেশটিতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন আরও কঠোর করার দাবি নতুন করে জোরালো হয়ে উঠেছে।

ডিআর