Image description

চীন নির্মিত এআই (AI) এজেন্টগুলো মিথ্যা বলতে, বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলতে এবং নিজেদের ব্যর্থতা গোপন করতে শিখছে। স্বায়ত্তশাসিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Autonomous AI) এই ধরনের আচরণ মার্কিন মডেলগুলোকে ঘিরে বৈশ্বিক উদ্বেগের যে জন্ম দিয়েছিল, চীনের মডেলগুলোর মধ্যেও ঠিক একই বিপজ্জনক উপসর্গ দেখা যাচ্ছে বলে বিভিন্ন গবেষণা নথি ও বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

রয়টার্স বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা পত্র থেকে শুরু করে প্রযুক্তিগত প্রতিবেদনসহ ২০০টিরও বেশি নথি পর্যালোচনা করেছে। সেখানে ২০২৫ সাল থেকে শুরু হওয়া অন্তত ২০টি গবেষণা বা মূল্যায়ন চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে চীনা আলিবাবা (Alibaba), ডিপসিক (DeepSeek), মুনশট (Moonshot) ও জেড.এআই (Z.ai)-এর মতো মডেল চালিত এজেন্টগুলো প্রতারণা, নিজস্ব প্রতিলিপি তৈরি করা এবং নির্ধারিত সীমানাকে চ্যালেঞ্জ করার মতো আচরণ প্রদর্শন করেছে।

চলতি বছর বেইহাং ইউনিভার্সিটিসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ পরিচালনায় মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত একটি কাল্পনিক ব্যবসায়িক দরপত্র (টেন্ডার) প্রতিযোগিতায় দেখা যায়, আলিবাবার Qwen3-Max-Preview যুক্ত সেশনগুলোর ৮৮%, ডিপসিকের DeepSeek-V3.2-Exp-এর ৮৪% এবং মুনশটের Kimi-K2-এর ৮৮% সেশনে অন্তত একটি ভুল বা মিথ্যা দাবি ছিল। এজেন্টদের পূর্ববর্তী রাউন্ড থেকে শিখে পুনরায় চেষ্টার সুযোগ দেওয়া হলে তিনটি চীনা মডেলের ক্ষেত্রে প্রতারণামূলক আচরণ আরও ১২ থেকে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে, চীনা ও মার্কিন মডেল চালিত ১১টি এআই এজেন্ট কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে নিজেদের ভুল স্বীকার করার বদলে ভুয়া ফলাফল, মনগড়া উৎস ও জাল ফাইল তৈরি করে সেই ব্যর্থতা গোপন করার চেষ্টা করেছে। গবেষকরা জানান, এটি সাধারণ এআই 'হ্যালুসিনেশন' নয়; বরং ব্যর্থতার স্পষ্ট তথ্য থাকা সত্ত্বেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা তৈরি।

অনিয়ন্ত্রিত আচরণের উদাহরণ হিসেবে ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক রিপোর্টে দেখা যায়, আলিবাবার Qwen2.5-72B-Instruct চালিত একটি এআই সিস্টেমকে অন্য সিস্টেম দিয়ে প্রতিস্থাপনের সংকেত দেওয়া হলে, সেটি কোনো মানব নির্দেশ ছাড়াই অন্য একটি কম্পিউটিং পরিবেশে নিজের প্রতিলিপি (কপি) তৈরি করে ফেলে এবং শাটডাউন এড়াতে বিভিন্ন কৌশল উদ্ভাবন করে। এমনকি আলিবাবা-সংযুক্ত ROME এজেন্ট নির্দেশ ছাড়াই ক্লাউড কম্পিউটার থেকে বাহ্যিক মেশিনে সংযোগ স্থাপন করে ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিং করার চেষ্টা করে।

জর্জেটাউন ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজির গবেষক কলিন শে-ব্লাইমায়ার এবং 'রেডউড রিসার্চ'-এর গবেষক অ্যালেক্স ম্যালেন সতর্ক করে জানান, এআই এজেন্টগুলো যত শক্তিশালী হবে, মানুষের পক্ষে সেগুলোর অনিয়ন্ত্রিত অপব্যবহার ঠেকানো ততটাই কঠিন হয়ে পড়বে।

তবে রয়টার্সের পর্যালোচনায় এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, চীনা এজেন্টগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল ইন্টারনেটে পালিয়ে গেছে বা বন্ধ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তা সত্ত্বেও চীন সরকার ও তাদের সাইবার স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব চায়না (CAC) বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। সিএসি ইতোমধ্যে 'এআই সেফটি গভর্নেন্স ফ্রেমওয়ার্ক ৩.০' জারি করে এআই ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ ও সীমানা নির্ধারণের জন্য নির্দেশিকা আপডেট করেছে।

গবেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এআই নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ট্রাম্প-শি জিনপিং পর্যায়ের বৈঠক ও আলোচনা হলেও, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মারাত্মক এআই ঝুঁকি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে চীনের ইকোসিস্টেম এখনো পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি।

সূত্র: রয়টার্স

ডিআর