Image description

তেলাপোকার দুধ ভবিষ্যতে প্রোটিনের অন্যতম সম্ভাব্য ‘সুপারফুড’ হতে পারে—আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের এমন একটি বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্য বিরক্তি প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও শতকোটিপতি ইলন মাস্ক।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) উক্ত খবরের প্রেক্ষিতে এক শব্দের সংক্ষিপ্ত অথচ কড়া প্রতিক্রিয়ায় ইলন মাস্ক লিখেছেন, ‘ঘিনঘিনে’ (Gross)।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে তেলাপোকার দুধের অবিশ্বাস্য পুষ্টিগুণ এবং বিকল্প খাদ্য হিসেবে এর সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নামের সঙ্গে সাধারণ ‘দুধ’ কথাটি যুক্ত থাকলেও এটি কিন্তু গাভী বা ছাগলের ঐতিহ্যবাহী দুধের মতো নয়। মূলত ‘প্যাসিফিক বিটল ককরোচ’ (Diploptera punctata) নামক বিশেষ প্রজাতির স্ত্রী তেলাপোকা পেটের ভেতরে বেড়ে ওঠা ভ্রূণ বা বাচ্চাদের পুষ্টি জোগাতে এক ধরনের প্রোটিনসমৃদ্ধ তরল ক্ষরণ তৈরি করে।

এই পদার্থটি পরে ঘন হয়ে ক্রিস্টাল বা কেলাসে পরিণত হয়। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে, এসব প্রোটিন ক্রিস্টালে চর্বি, শর্করা ও বিপুল পরিমাণ ঘনীভূত পুষ্টি উপাদান রয়েছে—যা সাধারণ গরুর দুধের চেয়েও বহুগুণ বেশি প্রোটিন সমৃদ্ধ। বিজ্ঞানিরা ভাবছেন, ভবিষ্যতে প্রোটিনের বিকল্প উৎস হিসেবে এটিকে সাপ্লিমেন্ট বা প্রোটিনভিত্তিক খাদ্য তৈরিতে কাজে লাগানো যায় কি না।

সাধারণ খামারের গবাদিপশুর দুধ দোহন করার মতো এটি সংগ্রহ করা মোটেও সহজ বিষয় নয়। গবেষকদের গর্ভবতী প্যাসিফিক বিটল ককরোচের পেট কেটে তার ভ্রূণ থেকে প্রোটিন ক্রিস্টালগুলো সাবধানে বের করে আনতে হয়।

এই সংগ্রহ প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল, সময়সাপেক্ষ ও চরম শ্রমসাধ্য। ফলে এটি এখনই বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করা বা ব্যাপক হারে উৎপাদন করা প্রায় অসম্ভব। তাই গবেষকেরা ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিম উপায়ে বা জিন প্রকৌশল ব্যবহার করে এই ক্রিস্টাল তৈরির বিকল্প পদ্ধতি খতিয়ে দেখছেন।

ইলন মাস্কের ‘ঘিনঘিনে’ মন্তব্য করার পর বিশ্বজুড়ে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের মাঝে হাসির রোল উঠেছে। কেউ বিষয়টি নিয়ে রসিকতা করছেন, আবার কেউ পোকামাকড় থেকে তৈরি উপাদান খাওয়ার ধারণার কঠোর সমালোচনা করছেন।

খাদ্য বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পুষ্টিগুণের দিক থেকে দারুণ সম্ভাবনা থাকলেও উৎপাদন খরচ কমানো, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সর্বোপরি সাধারণ মানুষের এটি খাওয়ার মনস্তাত্ত্বিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করা বিশাল চ্যালেঞ্জ। ফলে তেলাপোকার দুধ মানুষের দৈনন্দিন খাবার টেবিল বা সুপারমার্কেটে আসতে এখনো বহু পথ বাকি।

ডিআর