বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় তাঁর ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ সন্দিগ্ধ আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে পুনরায় তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালত এই আদেশ দেন। প্রসিকিউশন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন আসামি দীপকে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮টি সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে আইনজীবী মুতাসিম বিল্লাহ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতে জমা দেওয়া রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার ভিকটিম তাহসিফ সাউরি মৃত্যুর আগে সন্দিগ্ধ আসামি দীপ এবং জেরিকা তাসনিম দিশার সঙ্গে ঘোরাফেরাসহ বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়েছেন। সাউরিকে মৃত্যুর আগে শেষবারের মতো তাঁদের সঙ্গেই দেখা গেছে। প্রথম দফার রিমান্ডে দীপ কিছু তথ্য দিলেও তিনি অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির হওয়ায় বহু প্রশ্ন কৌশলে এড়িয়ে গেছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে রিমান্ড আবেদনে যেসব যুক্তি তুলে ধরা হয়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দীপের উপস্থিতির সত্যতা যাচাই।
ভিকটিমের সঙ্গে দীপ ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ থাকার সময় ১৫/২০ মিনিট অন্য কোথাও যোগাযোগ করেছিলেন কি না, তা বের করা।
সংশ্লিষ্ট সবার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ।
হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য, মোটিভ (উদ্দেশ্য) ও মূল ঘটনাস্থল নির্ধারণ।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধার।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মায়ের ফোনে ‘রওনা দিয়েছি, আসছি’ মর্মে বার্তা পাঠালেও তিনি আর ফেরেননি। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
এ ঘটনায় ৩০ অক্টোবর রাতে উত্তরখান থানায় তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে এ মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে দীপকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
ডিআর




Comments