মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে সরকার ‘খুব উদার’ বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। সরকারের বিরুদ্ধে অপতথ্য বা অপপ্রচার হলেও তা নিয়ে সরকারকে ‘পাত্তা দেওয়ার দরকার নেই’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
রোববার সন্ধ্যায় প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। পিআইবির প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক সাংবাদিক আবদুস সালামের ১১৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিষ্ঠান সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারিত অপতথ্যের তথ্য প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, গত ১৮০ দিনে সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ৪৬৪টি অপতথ্য প্রচারিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৭টি ছিল প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে।
তিনি বলেন, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে প্রচারিত অপতথ্যের তালিকায় তার অবস্থানও ওপরের দিকে।
নিজের প্রসঙ্গ টেনে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘ঘটনাচক্রে আমি তথ্য উপদেষ্টা, মানে কেউ কিছু আর পাত্তাটাত্তা দিচ্ছে না। সরকারকে পাত্তা দেওয়ার দরকার নেই, আই লাইক ইট। আমি এটা বলতে চাইছি, সরকার মতপ্রকাশের ব্যাপারে আসলে খুব উদার আছে, উদার থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটা গণতান্ত্রিক সরকারের মতপ্রকাশের ব্যাপারে উদার থাকাটাই আসলে কথা। মতপ্রকাশ বন্ধ করে দিয়ে একটা গণতান্ত্রিক সরকার, যেটা ভবিষ্যতে আরেকটা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হতে চায়, তার কোনো লাভ নাই।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদকদের বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে জাহেদ উর রহমান বলেন, সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমের সঙ্গে সংঘাতে গিয়ে সরকারের কোনো লাভ নেই—প্রধানমন্ত্রীও সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে এমন কথা বলেছেন।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হলে স্বৈরাচারী সরকারের উত্থান ঘটে বলেও মন্তব্য করেন তথ্য উপদেষ্টা। সাংবাদিক আবদুস সালামের জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের এক ধরনের ‘অ্যাক্টিভিজম’ করতে হয়েছে।
সাংবাদিকতার মাধ্যমে ‘অ্যাক্টিভিজম’ করা সম্ভব বলেও মনে করেন জাহেদ উর রহমান। সাংবাদিকতায় ‘অ্যাক্টিভিজম’ করে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।
পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক আবদুল হাই সিদ্দিক এবং সাংবাদিক আবদুস সালাম স্মৃতি সংসদের সভাপতি রেহানা সালাম।
এসএস




Comments