কঙ্গোর গোমা’তে অবস্থিত লেভেল-৩ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী সার্জেন্ট মো. মামুন উর রশিদের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি এভিয়েশন হ্যাঙ্গারে এ জানাযার আয়োজন করা হয়। এসময় মৃত্যুবরণকারী শান্তিরক্ষীর সম্মানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সাইফুল আলম। এ জানাযায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সকল পদবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে ওই সেনা সদস্যের মরদেহ তার নিজ বাড়ী জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে পাঠানো হয়। এরপর সেখানে সম্পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় তার দাফনকার্য সম্পন্ন হয়েছে।
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। আইএসপিআর জানায়, ওই সেনাসদস্য জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় আফ্রিকার দেশ কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) ব্যানইঞ্জিনিয়ার-১৩ কন্টিনজেন্টে কর্মরত ছিলেন। তিনি গত ২৩ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগজনিত কারণে মুনিগীর লেভেল-১ হাসপাতাল ভর্তি হন। পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গোমা শহরের লেভেল-৩ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থান ওইদিনই মৃত্যুবরণ করেন তিনি। প্রয়াত এই শান্তিরক্ষী সেনাসদস্যের মরদেহ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।
আইএসপিআর জানিয়েছে, এ পর্যন্ত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ২৩২ জন আহত এবং ১৩১ জন বাংলাদেশি সেনাসদস্য প্রাণ বিসর্জন দিয়ে বিশ^ শান্তিরক্ষার ইতিহাসে অম্লান হয়ে আছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীরা আফ্রিকার নয়টি মিশনে সর্বমোট ১০টি দেশে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে বিশে^র দরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখে চলেছে।




Comments