ফ্যাসিস্ট শাসনামলে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, "দেশের মানুষ দীর্ঘ এক ফ্যাসিস্ট শাসন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পার করে এই বাজেট পেয়েছে। আওয়ামী আমলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে। এমন এক ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে সীমিত সম্পদের মধ্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট প্রণয়ন করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল।"
তিনি দাবি করেন, এবারের বাজেটে প্রতিটি নাগরিকের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, "মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। আমরা চেষ্টা করেছি সমাজের কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ যেন এই বাজেটের আওতার বাইরে না থাকে। এবারের বাজেটের মূল দর্শন হলো অর্থনীতিকে গণতন্ত্রায়ন করা এবং মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের কব্জা থেকে বের করে আনা।"
ব্যাংকিং খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকগুলোতে লুটপাট ও অর্থ পাচারের কারণে বর্তমানে ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং কস্ট অব ফান্ডের অভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। এই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, "জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম আন্তর্জাতিকভাবে বাড়ায় আমাদের কিছু করার থাকে না। তবে অভ্যন্তরীণ খরচ কমিয়ে এবং পণ্য খালাসে বন্দরের দুর্নীতি ও সময় কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।" এছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বাফারস্টক রাখার পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দেশের জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ। বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৩ লাখ কোটি টাকাসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। বিপরীতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংগ্রহ করবে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments