রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় এক প্রকৌশলীর বাসায় ৯ বছর বয়সী এক শিশু গৃহকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটিকে ঘিরে দুর্ঘটনা না কি হত্যাকাণ্ড-এ নিয়ে রহস্য ও অভিযোগ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার সকালে ওই শিশুর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে গৃহকর্তার পরিবার। তাদের দাবি, শিশুটি ভবনের বারান্দা থেকে পড়ে যায়। পরে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, তাকে ভবন থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে এবং এর আগে সেখানে নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটি বহুতল ভবনের দশম তলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর বাসায় কাজ করত। মাসখানেক আগে সে সেখানে কাজ শুরু করে।
তিনি বলেন, “শুক্রবার সকালে কোনোভাবে সে বাসার বারান্দা থেকে পড়ে যায়। বারান্দার নিচের অংশে রেলিং থাকলেও ওপরের অংশ খোলা ছিল। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, ওই বাসায় গৃহকর্তা ছাড়াও তার স্ত্রী ও দুই সন্তান থাকেন। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি একটি দুর্ঘটনা।
অন্যদিকে শিশুটির বাবা-মা ঢাকায় এসে মর্গের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা অভিযোগ করেন, মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তাদের দাবি, মাসখানেক আগে এক ব্যক্তির মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা বেতনে মেয়েকে কাজে দেওয়া হয়।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকদিন আগে শিশুটি ফোনে মায়ের কাছে কান্নাকাটি করে জানিয়েছিল যে সে আর ওই বাসায় কাজ করতে চায় না। পরে তাকে নিতে চাইলে গৃহকর্তার পক্ষ থেকে আর্থিক শর্ত আরোপ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে শিশুটিকে নিচে পড়ে যেতে দেখা গেছে বলে জানা গেছে। তবে ক্যামেরার সীমাবদ্ধতার কারণে সে কোন তলা থেকে কীভাবে পড়ে গেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, পুরো বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হবে।




Comments