Image description

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রকৃত সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য উন্নয়নকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও পল্লীকেন্দ্রিক হতে হবে। শহর এগিয়ে গেলেও যদি গ্রাম পিছিয়ে থাকে, তবে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন টেকসই হবে না।

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (সিরডাপ)-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং দ্বিতীয় বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, "প্রতিবছর ৬ জুলাই বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবস পালন করা হয়। সিরডাপ গত পাঁচ দশক ধরে আঞ্চলিক সংহতি ও দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ বর্তমানে সিরডাপ গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করছে এবং এই দিবসটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রস্তাব উত্থাপনে আমরা অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছি।"

গ্রামীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা ও যুব বেকারত্ব এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমান সরকার পল্লী উন্নয়নকে কর্মসূচির কেন্দ্রে স্থান দিয়েছে। এরই মধ্যে ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে, যার ফলে ১২ লাখেরও বেশি কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে, যা সেচব্যবস্থা ও কৃষি উৎপাদনে বিপ্লব আনবে। এছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে নিম্নআয়ের নারীপ্রধান পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং ‘ফার্মার কার্ড’-এর মাধ্যমে কৃষকদের সরাসরি ভর্তুকি ও ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, আনসার-ভিডিপিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগিয়ে গ্রামগুলোকে প্রশাসন, অবকাঠামো এবং জনসেবার মূল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গ্রামীণ জনগণের জীবনমানের গুণগত পরিবর্তন আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

অনুষ্ঠানে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা অংশ নেন। বক্তারা সিরডাপের ৪৭ বছরের সেবামূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং গ্রামীণ অর্থনীতির রূপান্তরে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর