Image description

কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে ১২ জেলে ১২ ঘণ্টা মরণপণ যুদ্ধ করে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছে আরও ২ জেলে। মঙ্গলবার বিকাল ৪ টার দিকে কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর সাগরে এই মর্মান্তিক ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। এরপর প্রায় ১২ ঘণ্টা সমুদ্রে সাঁতরে বেঁচে ছিলেন তারা। বুধবার একটি ট্রলার তাদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে। 

ডুবে যাওয়া ট্রলারটি পটুয়াখালীর মহিপুর থেকে গভীর সাগরে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গিয়েছিল। নিখোঁজ জেলেরা হলেন কালাম (৫৫) এবং শহীদ (৫৭)।

জানা গেছে, দুলাল মাঝির  ট্রলারটি গভীর সাগর থেকে মঙ্গলবার বিকাল চারটার দিকে মহিপুর মত্স্য বন্দরে আসার জন্য রওনা করছিল। হঠাৎ করেই সাগরে বৈরী আবহাওয়া সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে গিয়ে সাগরে উত্তাল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাগরে উল্টে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানান, ট্রলারটি যখন উল্টে যায়, তখন কালাম ও শহীদ কেবিনের ভেতরে থাকায় মুহূর্তের মধ্যে তারা তলিয়ে যায়। আর কোনো উপায় না পেয়ে ট্রলারে থাকা মাঝিসহ বাকি ১২ জেলে উত্তাল সাগরের বুকেই ভাসতে থাকে।

মঙ্গলবার বিকাল থেকে শুরু করে বুধবার ভোররাত পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ১২ ঘণ্টা সাগরে মৃত্যুর সাথে লড়াই করেন ১২ জেলে। বুধবার  ভোরে ভাগ্যক্রমে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়া অন্য একটি মাছধরা ট্রলারের মাঝি-মাল্লাদের নজরে আসেন তারা। ট্রলারটি দ্রুত এগিয়ে গিয়ে সাগরে ভাসমান অবস্থায় মাঝিসহ ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

উদ্ধারকৃতর জেলেদের মধ্যে  দুলাল মাঝি (৪৫), কামাল (৩৫), মনির (৩৮), ইমরান (২৫), জামাল (৩৫) এবং শামীম (৩২) এর নাম প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বাকি জেলেদের নাম জানা সম্ভব হয়নি। এদের প্রত্যেকের বাড়ি বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার নিদ্রা সকিনা এলাকায়।

নিখোঁজ দুই জেলে কালাম ও শহীদকে উদ্ধারের জন্য স্থানীয় জেলেদের কয়েকটি দল সাগরে তল্লাশি চালাচ্ছে। তবে সাগরের অবস্থা এখনও উত্তাল থাকায় উদ্ধারকাজে তীব্র বেগ পেতে হচ্ছে। 

জেলেদের দাবি, নিখোঁজ কালাম ও শহীদকে উদ্ধারে কোস্টগার্ড এবং নৌবাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এদিকে আলীপুর-মহিপুর মত্স্য বন্দরের আড়তদার ও জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, বৈরী আবহাওয়ার মাঝে সমুদ্র মাছ শিকারে গিয়ে অনেক ট্রলার ডুবে গেছে। এসব ট্রলারে থাকা জেলেদের ভাগ্যে কি আছে তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তবে কি পরিমাণ ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে তা এখনও জানা যায়নি।

কুয়াকাটা উপকূলের জেলেদের একটি সুত্র জানিয়েছেন, সমুদ্রে একাধিক লাশ ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। যা তীরে আসতে সময় লাগবে। ইতোমধ্যে ১টি অর্ধগলিত মরদেহ কুয়াকাটা সৈকতের গঙ্গামতি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

মহিপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. শামীম হাওলাদার জানান, ট্রলার ডুবি বা জেলে নিখোঁজের বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ জিডি করেনি। তবে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। নিখোঁজদের পরিবার বা ট্রলার মালিকের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে আইনগত সহায়তাসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।