Image description

ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও বেলজিয়াম আজ মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালের এমন এক ম্যাচে, যেটিকে অনেকেই আগাম ফাইনাল বলছেন। রাউন্ড অব ১৬-তে দুর্দান্ত জয় তুলে নেয়ার পর দুই দলই আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত। এখন লক্ষ্য একটাই—শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করা। 

স্পেন এবারের বিশ্বকাপে ধারাবাহিকভাবে নিজেদের শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল, বলের দখল এবং দ্রুত আক্রমণভাগের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছে। গ্রুপ পর্বে দারুণ পারফরম্যান্সের পর নকআউট পর্বে তারা শক্তিশালী পর্তুগালকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। অন্যদিকে বেলজিয়ামও যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে। 

স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বেলজিয়াম অত্যন্ত অভিজ্ঞ এবং প্রতিভাবান দল। তাদের বিপক্ষে এক মুহূর্তের অসতর্কতাও বিপদ ডেকে আনতে পারে। তবে আমরা নিজেদের ফুটবলের ওপর আস্থা রাখছি। আমাদের লক্ষ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখা এবং সুযোগগুলো কাজে লাগানো।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই পর্যায়ে এসে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। ছোট ছোট ভুলই পার্থক্য গড়ে দেয়। তাই আমাদের খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ মনোযোগ ধরে রাখতে হবে।’

অন্যদিকে বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়াও আত্মবিশ্বাসী। তার ভাষায়, ‘স্পেন দুর্দান্ত দল এবং তারা এই টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট। কিন্তু আমরা কাউকে ভয় পাই না। আমরা সেমিফাইনালে উঠতেই মাঠে নামব। শুধু ভালো খেললেই হবে না, জয়ের মানসিকতা নিয়েও খেলতে হবে।’

গার্সিয়া আরও বলেন, অনেকে মনে করছেন কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত আসাই আমাদের জন্য বড় সাফল্য। আমি সেই ধারণায় বিশ্বাস করি না। আমরা আরও অনেক দূর যেতে চাই।

স্পেনের শক্তির মূল জায়গা তাদের মাঝমাঠ। রদ্রি, পেদ্রি ও ফাবিয়ান রুইসের সমন্বয়ে মাঝমাঠে দারুণ ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। সামনে তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল এবং নিকো উইলিয়ামস প্রতিপক্ষের রক্ষণে নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করছেন। অধিনায়ক আলভারো মোরাতা গোলের সামনে অভিজ্ঞতার ছাপ রাখছেন।

বেলজিয়ামের বড় ভরসা অধিনায়ক কেভিন ডি ব্রুইনে। তার নিখুঁত পাস এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। গোলবারের নিচে থাকবেন অভিজ্ঞ থিবো কুর্তোয়া, যিনি মনে করেন বেলজিয়াম এখন টুর্নামেন্টের শুরু থেকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং স্পেনকে হারানোর সামর্থ্য তাদের রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচটির ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে মাঝমাঠের লড়াই। স্পেন যদি বলের দখল ধরে রাখতে পারে, তাহলে তারা নিজেদের ছন্দে খেলতে পারবে। কিন্তু বেলজিয়াম যদি দ্রুত পাল্টা আক্রমণের সুযোগ পায়, তাহলে স্পেনের রক্ষণকে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হবে।

দুই দলের সামপ্রতিক পারফরম্যান্সও ম্যাচটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। স্পেন টুর্নামেন্টজুড়ে রক্ষণে খুব কম সুযোগ দিয়েছে প্রতিপক্ষকে। অন্যদিকে বেলজিয়াম নকআউট পর্বে আক্রমণভাগে দুর্দান্ত কার্যকারিতা দেখিয়েছে।

ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা, ম্যাচটি হবে কৌশল, গতি এবং মানসিক দৃঢ়তার এক অসাধারণ লড়াই। স্পেন চাইবে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে সেমিফাইনালে পৌঁছাতে। অন্যদিকে বেলজিয়াম চাইবে অভিজ্ঞতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দলকে বিদায় জানাতে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন বড় ম্যাচে একটি মুহূর্ত, একটি ভুল কিংবা একটি দুর্দান্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই বদলে দিতে পারে পুরো গল্প। তাই স্পেন-বেলজিয়াম দ্বৈরথে চোখ থাকবে বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবল সমর্থকের।

স্পেনের সম্ভাব্য একাদশ: উনাই সিমন; দানি কারভাহাল, রবিন লে নরমাঁ, আয়মেরিক লাপোর্তে, মার্ক কুকুরেয়া; রদ্রি, পেদ্রি, ফাবিয়ান রুইস; লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, আলভারো মোরাতা।

বেলজিয়ামের সম্ভাব্য একাদশ: থিবো কুর্তোয়া; থমাস মুনিয়ে, ভাউট ফায়েস, জান ভার্টঙ্গেন, ম্যাক্সিম ডি কাইপার; আমাদু ওনানা, ইউরি তিলেমান্স, কেভিন ডি ব্রুইনে; জেরেমি ডোকু, লোইস ওপেন্ডা, লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড।