২০২৪ সালের ১০ জুলাই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বানে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এতে কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে দেশ। ওইদিনই এক দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।
১০ জুলাই মূলত বিক্ষোভে ফুঁসে ওঠে গোটা দেশ। সকাল-সন্ধ্যা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি সারাদেশে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রাজধানীর জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ ২৫ টি পয়েন্টে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয়ভাবে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করে। এদিন সকাল ১০টার আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে লাইব্রেরি চত্বরে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা।
একপর্যায়ে তারা সেখান থেকে মিছিল করে কোটাবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে শাহবাগসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন। শাহবাগে আসার পর আন্দোলনের সমন্বয়কদের নির্দেশনা মোতাবেক বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে শাহবাগের আশেপাশের সড়কগুলো অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে শাহবাগ মোড়, কারওয়ান বাজার মোড়, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর, ফার্মগেট মোড়, শিক্ষা চত্বর, মত্স্য ভবন মোড়, চানখাঁরপুল মোড়, বঙ্গবাজার মোড় অবরোধ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, শেখ বোরহান উদ্দিন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজের শিক্ষার্থীরা।
এদিন দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার সংলগ্ন রেলপথ অবরোধ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। প্রায় এক ঘণ্টা যাবৎ তাদের অবরোধের কারণে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাদেশের সঙ্গে রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একইসঙ্গে বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, রিক্সা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যান চলাচলও বন্ধ করে দেন আন্দোলনকারীরা। গুলিস্থান জিরো পয়েন্ট ও পল্টন মোড়ও অবরোধ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা সকাল ১০টা থেকে গুলিস্তানে নূর হোসেন চত্বর দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
এছাড়া, রাজধানীর সায়েন্সল্যাব অবরোধ করেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। অপরদিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মহাখালী অংশের সড়ক অবরোধ করেন সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। রাজশাহী অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীরা। সিলেট-সমুনামগঞ্জ মহাসড়কসহ সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ময়মনসিংহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রংপুর মডার্ন মোড় অবরোধ করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দেওয়ান হাটসহ চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত কলেজসমূহের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বরিশাল বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা।




Comments