Image description

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট অব্যাহত থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। আবাসিক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় গ্যাস মিলছে না, দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক স্টেশন আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানায়।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল মেরামতে যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা বাংলাদেশে এসেছেন। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দেশে রয়েছে এবং মেরামত কাজ শুরু হলে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছে সরকার।

বর্তমানে দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। অথচ এলএনজিসহ সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান, মিরপুর, বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা বা ইন্ডাকশন কুকার ব্যবহার করছে। কেউ কেউ গভীর রাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লে রান্নার কাজ সারছেন।

সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, একটি স্টেশন সচল রাখতে অন্তত ১৫ পিএসআই গ্যাসচাপ প্রয়োজন হলেও অনেক এলাকায় বর্তমানে ২ থেকে ৫ পিএসআই চাপ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে স্বাভাবিকভাবে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না।

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্পখাতেও। অনেক কারখানায় উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এদিকে সংকটের প্রতিবাদে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন করে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত এবং নিয়মিত সেবা ছাড়া বিল আদায় বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি জানিয়েছে, তাদের দৈনিক চাহিদা প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুট হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১২০ কোটি ঘনফুট। ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের পরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কবে নাগাদ পূর্ণমাত্রায় গ্যাস সরবরাহ চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।