Image description

দেশের তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ফার্নেস অয়েলের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কেন্দ্রে তেল একেবারেই শেষ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন ক্ষমতা থাকলেও কেন্দ্রগুলো অলস পড়ে আছে। ফলে সারা দেশে লোডশেডিং তীব্র আকার ধারণ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে তেলভিত্তিক অধিকাংশ কেন্দ্রেই গড়ে মাত্র ৭-৮ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক অবস্থায় কমপক্ষে ১৫ দিনের মজুত থাকার কথা। মঙ্গলবার দুপুরে ৫৩টি তেলভিত্তিক কেন্দ্রের মোট ৫ হাজার ৪৬২ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৬৯৮ মেগাওয়াট।

পিডিবির কর্মকর্তারা জানান, একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এর সঙ্গে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি সংকট যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট। তারপরও অনেক সময় ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, পিডিবির কাছে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি বিল বকেয়া রয়েছে। দীর্ঘদিন বিল পরিশোধ না হওয়ায় অনেক আইপিপি জ্বালানি তেল কিনতে পারছে না। বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ডেভিড হাসনাত বলেন, ৬-৭ মাসের বিল বকেয়া থাকায় অনেক কোম্পানির পক্ষে বিদ্যুৎ উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মাত্র কয়েক ঘণ্টা থেকে ২-৩ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। গাজীপুর, চাঁদপুর ও খুলনার কয়েকটি কেন্দ্রে কোনো তেলই নেই, ফলে সেগুলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে তেলের অভাবে স্থানীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালানো না যাওয়ায় লোডশেডিং সবচেয়ে বেশি হচ্ছে।