জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ১৮তম সংশোধনী হবে ঐতিহাসিক : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত কোনো শক্তির এ দেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, গণহত্যার সঙ্গে জড়িত কোনো মাফিয়া শক্তিকে বাংলাদেশের মানুষ আর রাজনীতি করার সুযোগ দেবে না। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও বিচার হওয়া উচিত।
বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের বিচারের দাবি তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়া আদালতের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা করছে।
রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সাংবিধানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংস্কার কমিশন বা রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বাস্তব পরিবর্তনের জন্য সংসদে সংবিধানের ১৮তম সংশোধনী গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এটি হবে শতাব্দীর সবচেয়ে ঐতিহাসিক সংশোধনী, যার প্রত্যাশা নিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদরা রক্ত দিয়েছেন। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। বিগত সরকারের গুম, খুন ও ‘আয়নাঘর’-এর প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আয়নাঘরে ৬১ দিন থাকার অভিজ্ঞতা আমার নিজের আছে। সেখানে ২৪ ঘণ্টাও থাকা কঠিন, আমরা সেখানে থেকেছি। ইলিয়াস আলীসহ অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছেন। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা নিতে হবে। আহতদের শ্রেণিভিত্তিক তালিকা করে সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। যারা এখনো তালিকাভুক্ত হতে পারেননি, তাদের দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দল হিসেবে মতপার্থক্য থাকবে, তবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বাংলাদেশে আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদের উত্থান হতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মানবকন্ঠ/এমআর




Comments