Image description

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট)। ভোটের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হওয়া প্রায় নিশ্চিত। এরই মধ্যে বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকেই রাজধানীর হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে তার সঙ্গে দেখা করতে ভিড় করেন দলীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর হেয়ার রোডের ৩৫ নম্বর সরকারি বাসভবনে ওঠেন মির্জা ফখরুল। গত ছয় মাস ধরে সেখানে বিভিন্ন কাজে মানুষের আনাগোনা থাকলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের রাতের চিত্র ছিল কিছুটা ভিন্ন। অনেকেই তাকে শেষবারের মতো কাছ থেকে পেতে এবং নিজেদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও সমস্যার কথা জানাতে সেখানে ছুটে আসেন।

বুধবার রাত ৮টার দিকে বাসভবনে গিয়ে দেখা যায়, মির্জা ফখরুলের নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁও থেকে আসা মানুষের উপস্থিতি ছিল বেশি। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও অনেকে এসেছেন। তাদের অনেকের হাতে ছিল বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশের জন্য আনা আবেদনপত্র ও ডিও লেটার।

মানুষের ভিড় সামাল দিতে বাসভবনের মূল ফটকে থাকা পুলিশ সদস্যদের ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। নিচতলার একটি কক্ষে বসে একে একে ডিও লেটার ও বিভিন্ন আবেদনপত্রে সুপারিশ করছিলেন মির্জা ফখরুল। কখনো ভেতরের কক্ষে অপেক্ষমাণ ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেও নিচে ফিরে আসছিলেন তিনি।

এ সময় তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায়। মির্জা ফখরুলের স্বাক্ষর করা কাগজপত্র একে একে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডেকে তাদের হাতে তুলে দিচ্ছিলেন তারা।

ঠাকুরগাঁওয়ের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ফি কমানোর সুপারিশ নিতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘এই বয়সে এসে ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করছি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে খরচ অনেক বেশি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বলেছে, বড় কারও সুপারিশ থাকলে ছাড় দেওয়া হবে। আজ স্যার সুপারিশ করেছেন। জমা দিয়ে দেখি, ২০ শতাংশ হলেও তো ছাড় পাব।’

একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর আর এখানে আসা যাবে না। কাছে যাওয়া তো দূরের কথা। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা সবার চেয়ে কড়া।’

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পর আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা জানা যাবে। তবে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আগে থেকেই নিশ্চিত ধরে নেওয়া হচ্ছে। ভোটের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুক্রবার নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এসএস