ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন, ‘কার এত জ্বালা?’ বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি নতুন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বরং বিষয়টি নিয়ে সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হওয়ায় সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন করেছেন তিনি।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, তিনি বাংলাদেশি এবং দেশের প্রতি তাঁর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন থাকার কথা নয়। তবে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না, তা স্পষ্ট করেননি।
পরে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে মন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক কোনো বাধা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানতে চান, বিষয়টি কে সংবাদ করেছে। সাংবাদিকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হওয়ার কথা জানালে তিনি বলেন, ‘আমি তো সিটিজেন নিয়ে আছি, আপনি বলেন নেটিজেন!’
একপর্যায়ে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘কার এত জ্বালা যে কাজ করতে দেবে না?’ এরপর ২০০৮ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের জ্বালা উঠছে তার আবার?’
তবে এসব বক্তব্যের পরও তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্বের বর্তমান অবস্থান পরিষ্কার হয়নি। তিনি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না, করে থাকলে কবে করেছেন—এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি।
গত শুক্রবার টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন হুমায়ুন কবির। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
হুমায়ুন কবিরের বেড়ে ওঠার বড় একটি সময় কেটেছে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে। তিনি দেশটির লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। যুক্তরাজ্য বিএনপির কয়েকজন নেতা তাঁকে ব্রিটিশ নাগরিক বলে দাবি করলেও তিনি প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগে নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে তারাও নিশ্চিত নন।
সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রও জানিয়েছে, তাঁর নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদনের বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকত্ব থাকলে সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা রয়েছে। সংসদ সদস্য না হয়েও মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হয়।
এ কারণে হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্বের বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, তাঁর মন্ত্রিত্বের সাংবিধানিক যোগ্যতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। ফলে তাঁর নাগরিকত্বের অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এসএস




Comments