Image description

দেশে সারের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াসিন। তিনি বলেছেন, সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরবরাহে কেউ বাধা দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার জাতীয় সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক নোটিশের জবাবে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। নোটিশে সারের বাজারে অসাধু সিন্ডিকেট, বিতরণে অনিয়ম ও কৃষকদের দুর্ভোগের বিষয় তুলে ধরে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৩ লাখ টন সার মজুত রয়েছে। গত বছর সারের প্রয়োজন ছিল প্রায় ১২ লাখ টন। এ ছাড়া আরও ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ টন সার সরবরাহের পথে রয়েছে।

তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সারের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বিশেষ টাস্কফোর্স ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সারের ডিলারশিপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, মৃত ব্যক্তিদের নামেও এখনো সারের ডিলারশিপ রয়েছে। আবার এক এলাকার বাসিন্দা অন্য এলাকায় ডিলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিজের নির্বাচনী এলাকাতেও এমন ঘটনা দেখেছেন বলে জানান তিনি।

জবাবে কৃষিমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সার সরবরাহের বিষয়টি তদারক করার আহ্বান জানান।

রংপুরে সার সরবরাহের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আগস্টে সেখানে ১০ হাজার ৫৯০ টন সার সরবরাহ করা হয়েছিল। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে সরবরাহ করা হয়েছে ১৮ হাজার ৮৪৭ টন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘সারের কোনো সংকট নেই।’ তবে দেশে প্রয়োজনের তুলনায় সার উৎপাদন অনেক কম। দেশে মূলত ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয়। অন্য ধরনের সার খুব অল্প পরিমাণে উৎপাদন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের যাতে সারের জন্য দুর্ভোগে পড়তে না হয়, সে জন্য সরকার সরবরাহব্যবস্থার ওপর নজর রাখছে। কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি বা বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসএস