Image description

গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় দেশের নিটিং, ডাইং ও তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। কোথাও উৎপাদন কমেছে এক-তৃতীয়াংশ, আবার কোথাও নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। এতে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়, নষ্ট হচ্ছে শ্রমঘণ্টা এবং পিছিয়ে যাচ্ছে রপ্তানি পণ্যের শিপমেন্ট।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সক্রিয় সদস্য কারখানার প্রায় ২০ শতাংশের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এক সারসংক্ষেপে এ চিত্র উঠে এসেছে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

জরিপে অংশ নেওয়া কারখানাগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সংকটে তাদের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছে প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান।

গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রেও সংকটের তীব্রতা বেশ বেশি। স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ গড়ে প্রায় ৭৮ শতাংশ কমেছে বলে জরিপে উঠে এসেছে। একই সময়ে আগের তুলনায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় বেড়েছে প্রায় তিনগুণ।

উৎপাদনের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ডাইং খাত। এ খাতে উৎপাদন গড়ে প্রায় ৫১ শতাংশ কমেছে। নিটিংয়ে উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩৮ শতাংশ এবং তৈরি পোশাক উৎপাদন কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

সংকট সামাল দিতে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে প্রায় ৯২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানকে। একইসংখ্যক প্রতিষ্ঠান শ্রমঘণ্টা নষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছে।

জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে রপ্তানি পণ্য সরবরাহেও। জরিপে প্রায় ৮৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠান শিপমেন্ট বিলম্বের কথা জানিয়েছে। ফলে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ৮৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান।

এ ছাড়া প্রায় ৭৮ শতাংশ কারখানা উৎপাদন আংশিক বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় ৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের। সংকটের কারণে প্রায় ৬০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ক্রেতাকে মূল্যছাড় দিতে বাধ্য হয়েছে।

উৎপাদন ও বিক্রি কমে যাওয়ায় আর্থিক চাপও বাড়ছে। জরিপে প্রায় ৫৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ব্যাংক ঋণ খেলাপির ঝুঁকিতে থাকার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে প্রায় ৫৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আদেশ কমেছে বা বাতিল হয়েছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘায়িত হলে শুধু বর্তমান উৎপাদনই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ও বিদেশি ক্রেতাদের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এসএস