জাতীয় সংসদের ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’র সঙ্গে জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর বহুল আলোচিত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১–দলীয় ঐক্যের শরিক দলগুলো এই মতবিনিময় সভা সম্পূর্ণ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশেষ কমিটির সূত্র জানায়, জুলাই সনদে সই করা ২৬টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ের দুজন করে প্রতিনিধিকে এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন বিষয়ে শরিক দলগুলোর মতামত নেওয়াই এই সভার প্রধান উদ্দেশ্য। এর আগে গত ৪ আগস্ট বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে অংশীজন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।
তবে বিরোধী রাজনৈতিক জোট ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের জন্য ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করা বাধ্যতামূলক ছিল। বর্তমান সরকার তা না করে সংসদে বিশেষ কমিটি গঠন করায় এই প্রক্রিয়ার অংশ হতে চায় না বিরোধী দল। এমনকি এর আগে বিশেষ কমিটিতে প্রতিনিধি দেওয়ার সুযোগ থাকলেও বিরোধী দল তা প্রত্যাখ্যান করে নাম দেওয়া থেকে বিরত থাকে।
এ বিষয়ে ১১-দলীয় ঐক্যের শরিক দল এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, "আমন্ত্রণ পেলেও আমরা বৈঠকে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করার কথা ছিল, বিশেষ কমিটি গঠন সেই রায়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।"
একই সুর তুলে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন জানান, সংবিধান কীভাবে সংস্কার হবে তা গণভোটের মাধ্যমে জনগণ ইতিমধ্যেই নির্ধারণ করে দিয়েছে। প্রথাগত উপায়ে সংবিধান সংশোধন করা হলে রাষ্ট্রের বৈপ্লবিক সংকটের কোনো সমাধান হবে না।
উল্লেখ্য, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাত সংস্কারে ৩০টি দলের সঙ্গে আলোচনা করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ তৈরি হয়, যার ৪৮টি প্রস্তাবই সংবিধান-সম্পর্কিত। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের কথা ছিল। তবে বর্তমান বিএনপি সরকার তা গঠন না করে গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করে, যা নিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
ডিআর




Comments