বৈশ্বিক মঞ্চে তারেক রহমানের অভিষেক
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বসিত
বিশ্বমঞ্চে এক নতুন ঐতিহাসিক যাত্রার মুখোমুখি বাংলাদেশ। পাঁচ দিনের সফরে সফরসঙ্গীদের নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরসঙ্গীদের নিয়ে স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে নিউইয়র্কে এসে পৌঁছেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
তাঁর ওই ভাষণের মধ্য দিয়ে পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ধারাবাহিকতায় এক বিরল পারিবারিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব সম্প্রদায়। একই পরিবারের তৃতীয় উত্তরসূরি হিসেবে আন্তর্জাতিক এ বিশ্বমঞ্চে বক্তব্য রাখার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে জাতিসংঘে বাংলাদেশের এক নতুন অধ্যায়।
এদিকে দীর্ঘ দুই দশক পর তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর আগমনের মুহূর্তটা স্মরণীয় করে রাখতে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ব্যাপক জমায়েত হয়। অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রতিবাদ জানিয়ে একই স্থানে বিক্ষোভ করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পাঁচ দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে পাঁচ দিনের সংক্ষিপ্ত সফরে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী বৃহস্পতিবার তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। যুক্তরাষ্ট্র সফরে খুবই ব্যস্ত সময় কাটাবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি বিমান নিউইয়র্ক সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।
বিমানবন্দরের ১ নং টার্মিনালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। একই স্থানে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের ফুল ও করতালি দিয়ে স্বাগত জানান নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজার নেতৃত্বে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের পুষ্পস্তবক ও উষ্ণ অভ্যর্থনায় বরণ করে নেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশীরা।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জানান, জেএফকে বিমানবন্দর থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। হোটেলে তাঁকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান ও ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ভুঁইয়া মিল্টন, গিয়াস আহমেদসহ অনেকেই।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে অবস্থান করবেন। নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।
নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী
জানা গেছে, জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বৃহস্পতিবার বিকেলে ১৫ মিনিটের ঐতিহাসিক ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর বক্তব্যে থাকবে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা, অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা। সেই সাথে বাবার প্রবর্তিত অর্থনৈতিক দূরদর্শিতা ও মায়ের রাষ্ট্রনায়কসুলভ নেতৃত্বের উত্তরাধিকার বহন করে বিশ্ব কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করবেন তিনি।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে একাধিক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, জাতিসংঘ মহাসচিব এবং বৈশ্বিক ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
সফরের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার কর্মসূচির শুরুতেই জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজনে প্রাতঃরাশ প্রোগ্রামে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর পর্যায়ক্রমে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, হাইতির প্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক প্রতিনিধি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে নৈশভোজে অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণীর।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর নানা কারণে মাইলফলক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, "বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিষেক, জিয়া পরিবারের তিন প্রজন্মের উত্তরাধিকারের নতুন অধ্যায়। ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চে এক দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক বিশ্বনেতাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রাখেন: 'উন্নয়নের এত আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির পরও দারিদ্র্য ও ক্ষুধা কেন থেকেই যাচ্ছে?' শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দারিদ্র্য ও ক্ষুধার এই স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক দায়িত্বের ভিত্তিতে বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।"
তিনি আরও বলেন, "আজ, প্রায় ১৬,৮৩০ দিন পর, সেই একই মঞ্চে দাঁড়াতে যাচ্ছেন তাঁর সন্তান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের প্রেক্ষাপটে এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।"
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মো. শামীম বলেন, "এই সফরের মাধ্যমে শুধু যে একটি রাজনৈতিক পরিবারের ঐতিহ্য বজায় থাকছে তা নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশের স্বাতন্ত্র্য ও সার্বভৌম নেতৃত্বের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।"
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট বলেন, "বাবা-মা ও সন্তানের জাতিসংঘে ভাষণের নজির বিশ্বে আর নেই। কিন্তু তারেক রহমান সৌভাগ্যবান যে, তিনি একটি পরিবারের তৃতীয় সদস্য যিনি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। ফলে এই বিরল দৃষ্টান্ত গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়বে বলে আমি বিশ্বাস করি। এজন্য আমরা অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত।"
বিমানবন্দরে নেতা-কর্মীদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক আগমনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। এই উপলক্ষে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে বর্ণাঢ্য আনন্দ ও স্বাগত মিছিল করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মিছিলে অংশ নেন হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি। এই কর্মসূচির প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৮ এর চত্বরে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী জড়ো হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় তাঁদের হাতে রং-বেরঙের পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, জাতীয় পতাকা এবং বিএনপির দলীয় পতাকায় ছেয়ে যায় চারপাশ। প্রবাসীরা করতালি ও উল্লাসের মাধ্যমে প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানান। মিছিলজুড়ে "স্বাগত হে তারেক রহমান", "যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির পক্ষ থেকে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা" সহ নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে জেএফকে বিমানবন্দর এলাকা। এ সময় নিউইয়র্ক সিটির ব্যাপক পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি দেখা গেছে।
আনন্দ মিছিলের আগে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তাঁদের অন্যতম হলেন—বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ভুঁইয়া মিল্টন, গিয়াস আহমেদ, আব্দুল লতিফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান জিল্লু, নিউ ইংল্যান্ড (বোস্টন) বিএনপির সভাপতি সৈয়দ বদরে আলম (সাইফুল), ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু, নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, বিএনপি নেতা আখতার হোসেন বাদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাকসুদুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফোরাম যুক্তরাষ্ট্রের মোতাহার হোসেন, যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা তোফায়েল আহমেদ লিটন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাশেদ রহমান, এনামুল হক ভিকি ও বাদল মির্জাসহ অসংখ্য নেতাকর্মী।
মিছিলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিপুল সংখ্যক নারী ও প্রবাসীদের অংশগ্রহণ মিছিলে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে মিছিলটি শেষ হয়।
প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর ইতিহাসের অংশ: মাহ্দী আমিন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেন, "দেশপ্রেম, আবেগ, অনুভূতি এবং আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দেশের ভবিষ্যৎ রূপকল্প কী হওয়া উচিত, কীভাবে বাংলাদেশের স্বার্থকে সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে, সেগুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।"
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর সোমবার স্থানীয় সময় রাত ৯টায় ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলের লবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি ঐতিহাসিক সফরে নিউইয়র্কে এসেছেন। দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি আমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন, যা ইতিহাসেরই একটি অংশ।"
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, "শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পক্ষে নিজেদের অবস্থান, ভিশন ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় আজকে তাঁদের সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঠিক একইভাবে বাবা-মায়ের মতো দেশপ্রেমকে ধারণ করে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অধিকারের কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন।" আগামী বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণ উপস্থাপন করবেন বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশ Missions-এর উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ওয়াহিদুজ্জামান, নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ভুঁইয়া মিল্টন, গিয়াস আহমেদ ও ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ডিআর




Comments