দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো রূপ অবনতি ঘটাতে এবং স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে কাউকে কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না বলে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থির সার্বিক উন্নয়নে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার যেকোনো আইনসম্মত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে কিছু দুষ্কৃতকারী দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে এবং সুযোগ পেলেই বাংলাদেশে প্রবেশ করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পাঁচতারা করছে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন এক অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়, যাতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয় এবং সরকারকে জনগণের কাছে দুর্বল হিসেবে উপস্থাপন করা যায়।
অভিযোগের তীর বাড়িয়ে তিনি আরও বলেন, দেশের ভেতরের কিছু মানুষ না বুঝে বা জেনে-বুঝে এসব অপকর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছে এবং তাদের কার্যক্রমে ঘি ঢালছে। যারা এ ধরনের দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে ইন্ধন জোগাচ্ছেন বা সহযোগিতা করছেন, অনতিবিলম্বে তাদের সেই অবস্থান থেকে বিরত থাকার আকুল আহ্বান জানান তিনি।
নুরুল ইসলাম মনি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সরকার সুযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছে, কিন্তু কেউ যদি সেই সুযোগের অপব্যবহার করে, তবে তাকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, সরকার তার সবকিছুই করবে।
সরকারকে দুর্বল ভাবার কোনো অবকাশ নেই উল্লেখ করে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সরকারের দেওয়া সুযোগ-সুবিধাকে কেন্দ্র করে কেউ যদি মনে করেন সরকার দুর্বল, তবে সেটি নিতান্তই ভুল ধারণা। সরকার অত্যন্ত শক্ত ও মজবুত অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা, অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণে সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
ধর্মভিত্তিক উসকানিমূলক প্রচারের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, কিছু মানুষ ধর্মের লেবাস ধরে অন্যদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় মেতেছে। তারা ছোটখাটো বিষয়কে বড় করে সামনে নিয়ে আসছে এবং পরবর্তী সময়ে সেই বিভ্রান্তিকর বিষয় বা ভুল সিদ্ধান্তগুলোকে চক্রান্তমূলকভাবে প্রচার করছে। এ ধরনের অসত্য তথ্য ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন পক্ষ গুপ্তবাহিনী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বটবাহিনী’ ব্যবহার করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ওলামা দল এবং বাংলাদেশের সর্বস্তরের মুসলমান ও ইসলামপ্রিয় মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাঁরা যেন দেশের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি ও সরকারের অবস্থান গভীরভাবে বিবেচনা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে আগে শেখ মুজিবের ছবি যেখানে শোভা পেত, সেখানে প্রধানমন্ত্রী ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ এবং ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর বিশ্বাস ও আস্থা’ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সামনে এনেছেন।
তিনি আরও জানান, সরকার বর্তমানে সংবিধান সংশোধনের কাজ সম্পন্ন করছে। এর মাধ্যমে সংবিধানে 'আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা'—যা আগে সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল—তা পুনঃস্থাপনের কাজ চলছে। আগামী জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের সময় এ বিষয়টি যথাযথভাবে প্রতিস্থাপিত হতে দেখা যাবে।
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, এই রাজনৈতিক দল আল্লাহকে বিশ্বাস করে এবং মহান আল্লাহর অসীম শক্তির ওপর আস্থা রাখে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর যেকোনো বক্তব্যে প্রায়ই ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহার করেন উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে একটি ইসলামপ্রিয় ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী দল। ফলে এই দলকে সম্মানের সাথে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নৈতিক দায়িত্ব দেশের সকল ইসলামপ্রিয় মানুষের।
তিনি আরও আহ্বান জানান, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে একটি স্বাবলম্বী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করবে এবং তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করবে। তারেক রহমানের যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ সুজলা-সুফলা ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে এবং একটি প্রকৃত মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। একই সঙ্গে দেশের সব মানুষকে এক ছাতার নিচে এনে তাদের অভাব, অভিযোগ ও অনটন দূর করার নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
সবশেষে তিনি যোগ করেন, বাংলাদেশের সকল ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে সাথে নিয়ে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। পারস্পরিক সম্প্রীতি, অসাম্প্রদায়িক ঐক্য ও সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমেই বাংলাদেশকে একটি বিশ্ব দরবারে শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
ডিআর




Comments