Image description

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা না হলে দেশের জনগণই রাজপথে নেমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, “সংসদের ভেতরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না এলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাজপথই হবে আমাদের শেষ আশ্রয়।”

শুক্রবার (১ মে) দুপুরে রংপুর মডেল কলেজ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী রংপুর মহানগর ও জেলা শাখা আয়োজিত বাছাইকৃত রুকনদের তিন দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এমপি আজহারুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘ আন্দোলন এবং দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-যুবকের আত্মদানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে। এটি আমাদের জন্য দ্বিতীয় স্বাধীনতা। এই পরিবর্তনের সুফল হিসেবেই আমি কারামুক্ত হয়েছি এবং জনগণের ভোটে সংসদে আসার সুযোগ পেয়েছি। এই অর্জনকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।”

গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, “গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা হলে তা ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমরা সংসদে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের শপথ নিলেও বিএনপি সেই পথে হাঁটেনি। তারা সংসদে গিয়ে কয়েকটি মৌলিক অধ্যাদেশ বাতিল করেছে, যার প্রতিবাদে আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি।”

সংবিধান সংশোধন নিয়ে তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। যেখানে সরকারি পক্ষ থেকে ১২ জন এবং জামায়াতের কাছে ৫ জনের নাম চাওয়া হয়েছে। দলীয় ফোরামে আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিএনপিকে ঐক্যের রাজনীতিতে ফেরার আহ্বান জানিয়ে আজহারুল ইসলাম বলেন, “বিএনপি ঐক্যের কথা বললেও বাস্তবে বিভেদের রাজনীতি করছে। মুক্তিযুদ্ধ বা জাতীয় ঐক্যের কৃতিত্ব কোনো বিশেষ দলের নয়। ভুলের রাজনীতি পরিহার করে জনগণের গণরায়কে সম্মান জানাতে হবে। ক্ষমতার জোরে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।”

রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আযম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, মহানগর সেক্রেটারি কেএম আনোয়ারুল হক কাজল, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক, মহানগর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আলাষ আমিন হাসান এবং প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাউসার আলীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

মানবকণ্ঠ/আরআই