Image description

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন থানা ও উপজেলা বিএনপির নেতারা। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের প্রতিটি স্তরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল মঙ্গলবার মানবকণ্ঠকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দলটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা।

এর আগে শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন তারেক রহমান। সভায় তিনি নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট এবং রংপুর জেলা ও মহানগরের নেতাদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন। তারও আগে ১৮ জুলাই রংপুর বিভাগের অন্য তিন জেলা—দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। এসব বৈঠকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জেলার নেতাদের সঙ্গেও বিএনপি চেয়ারম্যানের একই ধরনের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রার্থীর জনপ্রিয়তাই হবে বিজয়ের প্রধান মাপকাঠি—এমনটাই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক দায়িত্ব থানা ও উপজেলা নেতাদের হাতে থাকলেও কোনো জটিলতা তৈরি হলে তা সমাধানের চেষ্টা করবেন জেলা পর্যায়ের নেতারা। সেখানেও রফা না হলে বিভাগীয় নেতারা বিষয়টি দেখবেন এবং সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী কেন্দ্র থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।

বিএনপির রংপুর বিভাগীয় এক নেতা জানান, এটি মূলত একটি সাংগঠনিক আলোচনা সভা ছিল, যেখানে মাঠপর্যায়ের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচনে দলগতভাবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেই এবং দলীয় কোনো প্রতীকও থাকবে না। তবে স্থানীয় নেতারা যদি সর্বসম্মতভাবে একক কোনো প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেন, তবে দল থেকে তাকেই সমর্থন দেওয়া হবে।

গত জাতীয় নির্বাচনে অর্ধশতাধিক আসনে দলীয় প্রার্থীরা ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় তৃণমূলের বহু জায়গায় কোন্দল ও বিভাজন দেখা দিয়েছিল। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকেই এবার নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—প্রতীক না থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত যেন সর্বসম্মত হয় এবং একক প্রার্থীর পক্ষেই যেন সবাই একযোগে কাজ করেন। পাশাপাশি তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ঝুলে থাকা সাংগঠনিক কাজ দ্রুত শেষ করে দলে গতি আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাড়াহুড়ো করে কমিটি গঠন করতে গিয়ে যাতে কোনো বিতর্কিত বা অনুপ্রবেশকারী দলে জায়গা না পায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের তরুণ, সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের মূল নেতৃত্বে নিয়ে আসার নির্দেশনাও দেন তিনি।

লালমনিরহাট জেলা বিএনপির এক নেতা জানান, সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত করার নির্দেশনার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কথা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে কোনো চাপ দেওয়া হবে না; বরং তৃণমূল থেকেই স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থী ঠিক করা হবে।

গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মঈনুল হাসান সাদিক বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ভেদাভেদ ভুলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে দল ও সরকার যাতে কোনো ধরনের বিতর্কের মুখে না পড়ে, সেভাবে কাজ করতে সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী রাখতেই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধারাবাহিকভাবে এসব মতবিনিময় সভা করছেন। তিনি সভাগুলোতে মাঠপর্যায়ের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।