সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিতর্কিত সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামি শরীয়াহর অকাট্য বিধানে পরিবর্তন আনা হয়েছে অভিযোগ করে অবিলম্বে এই আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে আইএবি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলের পক্ষ থেকে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ। এতে বলা হয়, গত ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন-২০২৬’ কুরআনে বর্ণিত উত্তরাধিকার ও শরীয়াহ বিধানের পরিপন্থী। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত বর্তমান সরকার কোনো ইসলামবিরোধী আইন করবে না বলে অঙ্গীকার করলেও মাত্র ছয় মাসের মাথায় এমন আইন পাস করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দলটি।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত মূল বিষয়সমূহ:
শরীয়াহর লঙ্ঘন: ইসলামে উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি হস্তান্তরের বিধান অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও সুবিন্যস্ত। নতুন এই সংশোধনীতে জীবনস্বত্ব রেখে হেবা করার যে সুযোগ রাখা হয়েছে, তা মূলত অসিয়তের শামিল, যা শরীয়াহর দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।
সামাজিক সংকট ও ভুল সমাধান: বৃদ্ধ বয়সে বাবা-মাকে সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের মতো মানবিক সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে শরীয়াহর বিধান পরিবর্তন করা গ্রহণযোগ্য নয়। এর পরিবর্তে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাবা-মায়ের প্রতি অবহেলাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে আইন প্রয়োগের দাবি জানানো হয়।
উলামায়ে কেরামের অবমূল্যায়ন: আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে দেশের প্রাজ্ঞ উলামায়ে কেরামের মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, শরীয়াহসংক্রান্ত বিষয়ে পশ্চিমা বা খ্রিস্টান পণ্ডিতদের রেফারেন্স ব্যবহার করা দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি স্পষ্ট উপেক্ষা।
সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি ও আহ্বান: বর্তমান সরকারের প্রতি সুধারণা রেখে নেতৃবৃন্দ বলেন, বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ সংকটের মতো বাস্তবভিত্তিক সমস্যাগুলো সমাধান না করে শরীয়াহবিরোধী পদক্ষেপে যাওয়া জাতির জন্য হতাশাজনক। অবিলম্বে উলামায়ে কেরাম ও আইনবিদদের সাথে আলোচনা করে এই বিতর্কিত আইন সংশোধনের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো বাদ দিয়ে ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।
এমআর




Comments