Image description

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপসহ আরও বেশ কিছু জনপ্রিয় অ্যাপস নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ‘মেটা’। সেই সঙ্গে নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে এগিয়ে থাকতে আরও নতুন অ্যাপস আনার পরিকল্পনাও রয়েছে এই টেক জায়ান্টের। সম্প্রতি তেমনটিই জানালেন মেটার এক কর্মকর্তা। তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী টুইটারকে পেছনে ফেলে ‘টেক্সট’ভিত্তিক অ্যাপস চালুর কথা ভাবছে মেটা।
 
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লড়াইয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ফেসবুক ও টুইটার। ভিডিওর ক্ষেত্রে অবশ্য এখনও ইউটিউব এবং টিকটক অনেক এগিয়ে। কিন্তু বাংলাদেশের মতোই বিশ্বের অধিকাংশ দেশে এ ক্ষেত্রে এগিয়ে ফেসবুক ও টুইটার। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে ফেসবুক থেকেও অনেক এগিয়ে টুইটার।
 
আর এ কারণেই টুইটারকে পেছনে ফেলতে নতুন পরিকল্পনা মেটার। বিকেন্দ্রীকৃত একটি প্ল্যাটফর্ম মার্কেটে আনতে চায় মেটা যা ‘টুইটার’ এবং ‘মাস্টোডন’কেও পেছনে ফেলবে।
 
এ প্রসঙ্গে মেটার একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, আমরা টেক্সটভিত্তিক পোস্টের জন্য আপডেটগুলো ভাগ করতে একটি স্বতন্ত্র বিকেন্দ্রীভূত সামাজিক নেটওয়ার্ক অনুসন্ধান করছি। আমরা বিশ্বাস করি, এ ক্ষেত্রে একটি পৃথক প্ল্যাটফর্মের জন্য সুযোগ রয়েছে, যেখানে ‘ক্রিয়েটর’ এবং তাদের ফলোয়াররা নিজেদের আগ্রহের বিষয়ে আপডেট দিতে পারবে।
 
সম্প্রতি ইলন মাস্ক টুইটারের মালিকানা গ্রহণের পর প্রতিষ্ঠানটির খরচ হ্রাসের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন। এতে প্রতিষ্ঠানটির মধ্যে বেশ বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে এই সুযোগটি গ্রহণ করতে চায় মেটা।
 
বিবিসি প্রতিবেদন জানায়, মেটা ২০১৬ সালে চালু হওয়া ‘মাস্টোডন’-এর মতো একটি পরিষেবা চালু করবে। বর্তমানে তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে এবং নিজেদের সঙ্গে রাখতে রীতিমতো লড়াই করতে হচ্ছে মেটার প্ল্যাটফর্ম ফেসবুককে। অন্যদিকে মেটার ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ ইনস্টাগ্রামও তার ক্রিয়েটর এবং ফলোয়ার হারাচ্ছে টিকটক অ্যাপসের জনপ্রিয়তার কারণে। আর এ কারণেই তরুণদের নিজেদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাখতে মেটাভার্সে বড় অঙ্কের বিনিয়োগও করেছে ফেসবুক। কিন্তু মেটাভার্স এখনও প্রস্তুত না হওয়ায় তরুণদের নতুন কিছু দিয়ে আকৃষ্ট করে রেখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মেটা।
 
তবে তাদের নতুন অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মটি কবে থেকে মার্কেটে আসবে এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
 
এদিকে যুক্তরাজ্যে নতুন এক চাপের মুখে পড়তে যাচ্ছে মেটার জনপ্রিয় ম্যাসেজিং অ্যাপস হোয়াটসঅ্যাপ। প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাজ্যের ‘অনলাইন সেফটি বিল’ অনুসারে নিজেদের এনক্রিপ্টেড মেসেজিং ব্যবস্থাকে দুর্বল করার পরিবর্তে সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়াটাকেই উত্তম বলে গণ্য করছে হোয়াটসঅ্যাপ। উইল ক্যাথকার্ট হোয়াটসঅ্যাপের প্রধান। তিনি বলেন, দুর্বল এনক্রিপশন তৈরির জন্য আমাদের যদি আহ্বান জানানো হয়, তাহলে আমরা সেটি করব না।
 
এর আগে অপর মেসেজিং অ্যাপ সিগনালও জানিয়েছিল, যুক্তরাজ্য এই বিল পাস করলে তারাও নিজেদের মেসেজ স্ক্যান করতে দেবে না দেশটিকে, বরং সার্ভিস বন্ধ করে দেবে। অবশ্য যুক্তরাজ্য সরকার বলছে, শিশুর নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা উভয় রক্ষা করা সম্ভব এই ব্যবস্থায়।
 
যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপস হোয়াটসঅ্যাপ। দেশটিতে প্রতি ১০ জন প্রাপ্ত বয়স্কের মধ্যে ৭ জন এই মেসেজিং অ্যাপস ব্যবহার করে বলে জানিয়েছে দেশটির যোগাযোগ বিষয়ক রেগুলেটরি সংস্থা ‘অফকম’।