Image description

মেহেরপুরের মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সের দুই শতাধিক ভাস্কর্য ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এখনো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা ভাস্কর্যগুলো এবং অগোছালো রয়েছে ভেতরের পরিবেশ। ঐতিহাসিক এই স্থানটির ভাস্কর্যগুলো ভাঙচুর করায় নিন্দা প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

সোমবার (৫ আগষ্ট) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগের পর সারাদেশের মতো মেহেরপুরের মুজিবনগরেও ছাত্র-জনতা আনন্দ মিছিল নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। তাদের মধ্যে কিছু দুষ্কৃতকারী মুবিজনগর সরকারের শপথ নেওয়ার স্থানে নির্মিত প্রায় ৬০০ ভাস্কর্যের মধ্যে দুই শতাধিক ভাস্কর্য ভাঙচুর করে। নতুন যারা সরকারে আসবেন, তারা যেন দ্রুত ভাস্কর্যগুলো মেরামত করেন সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন স্থানীয়রা। 

মুজিবনগর কমপ্লেক্সের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য হুমায়ূন আহমেদ বলেন, ছোট-বড় ২০০ ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হয়েছে। পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ ছিল ভাস্কর্যগুলো। প্রতিদিন কয়েক হাজার দর্শনার্থী এখানে আসতেন। কমপ্লেক্সের সব ভাস্কর্য ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। কমপ্লেক্সজুড়ে চালিয়েছে লুটপাট।

এলাকাবাসী জানায়, ঘটনার দিন সাবেক ওসি উজ্জল কুমার জনরোষের ভয়ে থানা থেকে পালিয়ে যান। থানায় উপস্থিত থাকা নারী ও পুরুষ কনস্টেবল, এএসআই, এসআইরা এতে করে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকেন। পরে ঘটনা স্বাভাবিক হলে ওসি থানায় ফেরত আসেন। তখন থানার অন্য সদস্যরা ওসির নির্দেশ মানতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বাধ্য হয়ে মেহেরপুরের পুলিশ সুপার এস এম নামজুল হক রাতেই ডিবির ওসি সাইফুল ইসলামকে মুজিবনগর থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়ে দেন। সাবেক ওসিকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করে নেন। এতে মুজিবনগরের সব স্থাপনা অরক্ষিত হয়ে যায়। 

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান খান বলেন, ৫ আগস্ট পুলিশ সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ছিলেন। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঐতিহাসিক মুজিবনগরে হামলা চালায়। পুলিশের কার্যক্রম এখন মোটামুটি শুরু করা হয়েছে। পুলিশের সব সদস্য কাজে যোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুজিবনগর সরকারকে গার্ড অব অনার দেওয়া আনসার সদস্য আজিমুদ্দিন শেখ ও সিরাজ উদ্দিন বলেন, ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই এপ্রিল মুজিবনগরের বৈদ্যনাথতলা আম্রকাননে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা ও শপথ গ্রহণের মাধ্যমে গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার। তারা ওই সরকারকে গার্ড অব অনার দেওয়া সদস্য হওয়ায় প্রতি বছর অনেক দর্শনার্থী তাদের কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে আসে। দেশের মানুষ যেসব ভাস্কর্য ও স্মৃতিসৌধ দেখার জন্য আসত, ভাস্কর্য ভেঙে ফেলায় তারা আর আসবে না। তাদের কথাও আর কেউ শুনবে না।

মুজিবনগর সরকারকে গার্ড অব অনার দেওয়া ১২ জন সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে ১০ জনই মারা গেছেন। বাকি দুজন বেঁচে থেকে এই দৃশ্য দেখে গেলেন। ভাস্কর্যগুলো ভাঙার সময় প্রশাসনের কাউকে তা রক্ষা করতে দেখা যায়নি। মানুষের বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ঠেকাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে পুলিশ প্রশাসন। আনসার সদস্য যারা ছিলেন তারা নিরুপায় হয়ে কমপ্লেক্স ছেড়ে পালিয়ে যান। 

প্রসঙ্গত, ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী দেশের মানচিত্রে মহান মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরকে ভাগ করে প্রায় ৬০০টি ভাস্কর্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয় মুক্তিযুদ্ধকালীন বিভিন্ন চিত্র। দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে যান ঐতিহাসিক মুজিবনগরে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে।


মানবকণ্ঠ/এফআই