নবীনগরে জেলা প্রশাসনের অভিযানেও বন্ধ হয়নি অবৈধ বালু উত্তোলন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার চরলাপাং এলাকায় মেঘনা নদী এখন অবৈধ বালু উত্তোলনের স্থায়ী ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। সরকারি আইন ও পরিবেশের তোয়াক্কা না করে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা চলছে ড্রেজারের তাণ্ডব।
গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযানে ৫ জনকে কারাদণ্ড ও সরঞ্জাম জব্দ করা হলেও, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও পুরোনো চেহারায় ফিরেছে নদী এলাকা। শুক্রবার সকাল থেকেই অসংখ্য ড্রেজার ও বাল্কহেড নিয়ে পুনরায় বালু উত্তোলন শুরু হওয়ায় প্রশাসনিক অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী যৌথ অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, জেলা পুলিশ ও নৌপুলিশ। অভিযানে চরলাপাং এলাকা থেকে ২টি ড্রেজার ও ২টি বাল্কহেড জব্দ করা হয় এবং ৫ জন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- শহীদুল ইসলাম, আকবর খান, মিজান মিয়া, শরীফ মিয়া ও জামাল মিয়া। তবে অভিযানের খবর আগেভাগেই পেয়ে যাওয়ায় বালু মহালের মূল নিয়ন্ত্রক ও প্রভাবশালী বিএনপি নেতা ইজারাদার শাখাওয়াত হোসেন ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানের পরদিন শুক্রবার সকালেই নতুন উদ্যমে নদীতে নামানো হয় ড্রেজার। যাদের সরঞ্জাম জব্দ হয়নি, তারা এবং নতুন করে আসা ড্রেজার মালিকরা প্রশাসনের উপস্থিতির পরপরই আবারও ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করেছে। এই লাগামহীন বালু উত্তোলনের ফলে মেঘনার গতিপথ বদলে যাচ্ছে এবং নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের জন্য ৮ কোটি ৯৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় নাসিরাবাদ বালুমহালটি ইজারা পায় প্রভাবশালী বিএনপি নেতা শাখাওয়াত হোসেনের মালিকানাধীন মেসার্স সামিউল ট্রেডার্স। তবে ইজারার শর্ত ও সীমানা লঙ্ঘন করে চরলাপাং মৌজার ফসলি জমির গা ঘেঁষে বালু উত্তোলন করছেন তিনি। এই ব্যবসার সাথে স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার শতাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক কর্মী ও সশস্ত্র বাহিনীর মদত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রিন্স সরকার ও এম কায়সার জানান, অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে তাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, "বালুমহালের অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় আলোচনা হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান বলেন, "অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলাসহ আরও কঠিন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
তবে স্থানীয়রা মনে করেন, কেবল শ্রমিকদের কারাদণ্ড দিয়ে এই দস্যুতা থামানো সম্ভব নয়। বালু উত্তোলনের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে স্থায়ী পুলিশি নজরদারি নিশ্চিত না করলে মেঘনা পাড়ের জনপদ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments