Image description

গাইবান্ধার সাতটি উপজেলায় আইনের তোয়াক্কা না করেই গড়ে উঠেছে ১২৫টি ইটভাটা, যার মধ্যে ১০৯টিই সম্পূর্ণ অবৈধ। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স ছাড়াই এসব ইটভাটায় দেদারসে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, নির্গত হচ্ছে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া। এতে করে একদিকে যেমন কৃষি জমির উপরিভাগ (টপসয়েল) হারিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে বিপন্ন হচ্ছে জনস্বাস্থ্য ও প্রকৃতি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে ‘লোক দেখানো’ অভিযান চালানো হলেও বন্ধ হচ্ছে না এই অবৈধ কারবার।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ১২৫টি ইটভাটা থাকলেও মাত্র ১৬টির বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। বাকি ১০৯টি ইটভাটা চলছে অবৈধভাবে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী জনশূন্য এলাকায় ইটভাটা স্থাপনের বিধান থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ২১টি ইটভাটার মধ্যে ১৮টিই অবৈধ। এসব ভাটা আবাদি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে গড়ে ওঠায় ব্যাহত হচ্ছে শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য।

সাদুল্লাপুর উপজেলার চিত্র আরও ভয়াবহ। সেখানকার মহিপুর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে একটি ইটভাটা। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ঘন কালো ধোঁয়ায় বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুরা শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছে। সম্প্রতি কয়েকটি ভাটায় ২৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হলেও সেগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। ‘গগত’ নামীয় একটি ইটভাটা আবাদি কৃষি জমির ওপর গড়ে উঠলেও মালিকপক্ষ এ বিষয়ে কথা বলতে নারাজ।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক উত্তম কুমারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে দপ্তরের পরিদর্শক শের আলম জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের নিজস্ব কোনো ম্যাজিস্ট্রেট নেই। জেলা প্রশাসনের কাছে ম্যাজিস্ট্রেট চাওয়া হলেও তা পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।

অন্যদিকে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা মুঠোফোনে জানান, ইটভাটার কারণে পরিবেশ দূষিত হলে তা পরিবেশ অধিদপ্তর দেখবে। তবে বর্তমানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। নির্বাচনের পর এসব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সচেতন মহলের দাবি, নির্বাচনের অজুহাতে পরিবেশ ধ্বংসের এই উৎসব চলতে দেওয়া যায় না। দ্রুত এসব অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে আবাদি জমি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মানবকণ্ঠ/ডিআর