৩৬ দিন ধরে বিচারক শূন্যতায় অচল সন্দ্বীপ আদালত: ভোগান্তিতে ৪ লাখ মানুষ
চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে গত ৩৬ দিন ধরে কোনো বিচারক না থাকায় আদালতের বিচারিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে সন্দ্বীপ উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদটি শূন্য থাকায় উপজেলার প্রায় চার লাখ মানুষ আইনি সেবা পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় নিয়মিত মামলার হাজিরা, জামিন শুনানি, রিমান্ড আবেদন, হলফনামা (এফিডেভিট), কোর্ট ম্যারেজ এবং নতুন অভিযোগ গ্রহণসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে একদিকে যেমন মামলার জট বাড়ছে, অন্যদিকে বিচারপ্রার্থীরা সময়মতো আইনি প্রতিকার পাচ্ছেন না। বর্তমানে এই আদালতে সিভিল ও ফৌজদারি মিলিয়ে সাত শতাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
সন্দ্বীপ একটি দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের এখন বাধ্য হয়ে মূল ভূখণ্ড চট্টগ্রামে গিয়ে জেলা আদালতের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। সাগর পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রামে যাতায়াত করা সাধারণ মানুষের জন্য যেমন সময়সাপেক্ষ, তেমনি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। অনেক ক্ষেত্রে এক দিনের হাজিরা দিতে গিয়ে একাধিক দিন ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, যা দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য দুঃসহ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সন্দ্বীপ উপজেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনজুরুল আমীন বলেন, “এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এখানে কোনো জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নেই। কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলে আইন অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করার নিয়ম থাকলেও এখন তাদের ঝুঁকি নিয়ে সাগর পার করে চট্টগ্রামে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে নৌ-যাতায়াতের ভোগান্তির পাশাপাশি খরচও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বিচারক না থাকায় আদালতের স্বাভাবিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে।”
দীর্ঘদিন ধরে আদালতের এই অচলাবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিচারপ্রার্থী ও স্থানীয় আইনজীবীরা অবিলম্বে সন্দ্বীপ আদালতে স্থায়ী বিচারক নিয়োগ দিয়ে বিচারিক কার্যক্রম পুনরায় চালুর জন্য প্রধান বিচারপতি ও সংশ্লিষ্ট মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments