‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ’ সহিংসভাবে দমনের অভিযোগে ইরান-এর পাঁচ কর্মকর্তার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তেল বিক্রির অর্থ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগে আরও ১৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ন্যায়ের দাবিতে রাজপথে নামা ইরানি জনগণের পাশে যুক্তরাষ্ট্র দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নির্দেশে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি লারিজানি। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, বিক্ষোভ দমনে তিনি সমন্বয় ও শক্তি প্রয়োগে উসকানি দিয়েছেন। এ ছাড়া লোরেস্তান ও ফারস প্রদেশে দমনমূলক অভিযানের অভিযোগে ইরানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিপ্লবী গার্ডের চার আঞ্চলিক কমান্ডারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানায়, তালিকাভুক্ত ১৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাজ্যে নিবন্ধিত কোম্পানির মাধ্যমে তেল বিক্রির অর্থ ‘শ্যাডো ব্যাংকিং’ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পাচার করেছে। এসব নেটওয়ার্ক ও মানি এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে প্রতিবছর বিপুল অর্থ পাচার হলেও ইরানের সাধারণ মানুষ চরম অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে বলে দাবি করা হয়।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যেকোনো সম্পদ জব্দ হবে এবং কোনো মার্কিন নাগরিক তাদের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবেন না। পাশাপাশি, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন করলে বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এ পর্যন্ত ৮৭৫টির বেশি জাহাজ, উড়োজাহাজ, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments