ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন
বেনাপোলে ৬ মাসে রাজস্ব ঘাটতি হাজার কোটি টাকা
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনের ফলে চলতি অর্থবছরে স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমসে প্রথম ছয় মাসে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ১৩ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। এছাড়াও বাণিজ্যে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা, আমদানি কমে যাওয়া ও বন্দরের অভ্যন্তরীণ জটিলতাসহ শুল্কফাঁকি বৃদ্ধি এই ঘাটতির প্রধান কারণ বলে অভিযোগ করেছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।
দেশের বেশিরভাগ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয় বেনাপোল-ভারতের মধ্যকার পেট্টাপোল স্থলপথে। সম্প্রতি ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি ও এলসি সংকট, কাস্টমস ও বন্দরের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম, জটিলতা ও অতিরিক্ত শুল্কায়নসহ নানাবিধ অব্যবস্থাপনায় এ আমদানি-রপ্তানি কমেছে।
কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমসে ৮ হাজার ৩৭০ কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। এর মধ্যে জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। কিন্তু এ সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ হাজার ১২০ দশমিক ৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে প্রায় এক হাজার ১৩ কোটি টাকা।
এ ঘাটতির কারণ হিসেবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনকে বেশি দায়ী করছেন বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী নেতারা। তবে বেনাপোল আমদানি রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানান, ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে টানাপোড়েন এবং কাস্টমসের হয়রানিসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় বাণিজ্য ঘাটতিসহ রাজস্ব আদায় কম হচ্ছে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানিয়েছেন, উচ্চ শুল্ক যোগ্য পণ্য, শিল্প কাঁচামাল, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, যন্ত্রাংশ ও কেমিক্যাল আমদানি কমে গেছে। রাজস্ব আয় ঘাটতির কারণ হিসেবে তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুল্ক, ভ্যাট আদায় কমেছে বলেই রাজস্ব ঘাটতি বাড়ছে। তবে অর্থবছরের শেষ দিকে রাজস্ব আদায়ে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব বলে আশাবাদী তিনি।
বন্দর সূত্র অনুসারে, এর আগে দৈনিক ৬০০ থেকে ৭০০ ট্রাক পণ্য আমদানি হলেও বর্তমানে সেটি নেমে এসেছে ২৫০-এর ঘরে। বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন জানিয়েছেন, আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায় যেমন কমছে, তেমনি নেতিবাচক প্রভাবও পড়ছে।




Comments